বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী হামলার অন্যতম ৯ / ১১-র হামলা। ফের আল-কায়েদা জঙ্গিগোষ্ঠী পশ্চিমী কোনও দেশে এই ধরণের হামলা চালানোর মতলব করছে বলে রবিবার ফাঁস করলেন আফগানিস্তান গুপ্তচর বাহিনীর প্রাক্তন  প্রধান। আর তাদের যাবতীয় সমর্থন ও সহায়তা করছে পাকিস্তান-সমর্থিত হাক্কানী নেটওয়ার্ক (এইচকিউএন)।

রবিবার একাধিক টুইট করে আফগানিস্তানের জাতীয় সুরক্ষা দফতরের (এনডিএস) প্রাক্তন ডিরেক্টর রহমতউল্লা নাবিল দাবি করেছেন, পাকিস্তানে থাকা হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদস্যরাই এখন আল-কায়দা গোষ্ঠীর প্রধান ভরসা। এদিন নাবিল সতর্ক করে বলেছেন, 'যদি এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ না হয় তবে আমরা ভবিষ্যতে আরও ৯/১১-ধরণের হামলা দেখতে পাব'। কিনি আরও জানিয়েছেন, এই বড় হামলার পরিকল্পনা করছে, আল-কায়দা'র তিন নেতা, আল-জাওয়াহিরি, আবু মহম্মদ আল মাসরি এবং সইফ উল আদেল।  

মৌলবী জালালউদ্দিনের ছেলে সিরাজউদ্দিন হাক্কানির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই তালিবানদের শাখা সংগঠন-কে গত শতাব্দীরর আটের দশকে সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান কোলাখুলি সমর্থন করেছিলেন। সিআইএ-র সহায়তা পেত তারা। কিন্তু এখন তাই বুমেরাং হয়ে গিয়েছে মার্কিনীদের জন্য। বর্তমানে আফগানিস্তানে তাদের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত আফগান সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে হাক্কানি-রা। মৌলবী জালালউদ্দিন হাক্কানী তার এই গোষ্ঠীর মাথায় বসিয়েছিল আরব-জাত ওসামা বিন লাদেন-কে। পরে এই লাদেনই আল-কায়েদা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠা করেছিল। কাজেই আল-কায়েদা এবং হক্কানীদের শুরুর থেকেই নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে।

রবিবার টুইটে আফগানিস্তানের জাতীয় সুরক্ষা দফতরের (এনডিএস) প্রাক্তন ডিরেক্টর রহমতউল্লা নাবিল বলেছেন, সিরাজউদ্দিন হাক্কানী এবং হাক্কানী গোষ্ঠীর সিনিয়র কমান্ডারদের নিয়ে এক কমিশন তৈরি করা হয়েছে,  বিদেশি যোদ্ধাদের দেখাশোনার জন্য। বিদেশী যোদ্ধাদের সঙ্গে হাক্কানীদের যোগাযোগ রক্ষা করে ইয়াহিয়া হাক্কানী।

তিনি আরও জানিয়েছেন ইটিআইপি বা পূর্ব তুর্কিস্তান ইসলামি আন্দোলন, একিউআইএস বা ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদা এবং একিউসি বা আল-কায়েদা কেন্দ্রীয় - গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে হাক্কানী নেটওয়ার্ক নেতৃত্বের দারুণ ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। কতটা ঘনিষ্ঠতা? নাবিল জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে হামজা বিন লাদেনের মৃত্যুর কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু যেটা বলা হয়নি, তা হল, হামজার সঙ্গেই ড্রোন হানায় মৃত্যু হয়েছিল ক্বারী জাকির নামে আরেক জঙ্গিনেতার, যিনি ছিলেন হাক্কানী নেটওয়ার্কের  আত্মঘাতী অভিযানের প্রধান।

নাবিল আরও জানিয়েছেন গোয়েন্দা সূত্র ভালো করেই জানে, যে যে এলাকায় হাক্কানীদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে, সেই সেই অঞ্চলেই একিউআইএস এবং একিউসি-র শক্তি রয়েছে। হাক্কানী নেটওয়ার্কের সঙ্গে আল-কায়েদার বিভিন্ন শাখার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অজস্র প্রমাণ রয়েছে। তাদের কাছে। মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ট্যাগ করে নাবিল লিখেছেন এই বিষয়টি উপেক্ষা করা মোটেই ঠিক হবে না।