কোভিড-১৯ রোগে এই পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন অনেক রাষ্ট্রনেতাই। কানাডার প্রদানমন্ত্রীর স্ত্রী থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনেকেই এই ভয়ানক সংক্রামক ব্যধীর কবলে পড়েছেন। এখন তাদের তালিকায় নাম না জুড়লেও বুধবার থেকে অন্তত পাঁচদিনের জন্য স্ববিচ্ছিন্নতার চাদরের তলায় ঢুকে পড়তে হল পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মহম্মদ কুরেশি-কেও। শুধু তিনিই নন, তাঁর সঙ্গে সঙ্গে স্ববিচ্ছিন্নতায় বন্দি হলেন পাক রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভি এবং পাক পরিকল্পনা মন্ত্রী আসাফ উমর।

এঁরা তিনজনই যে দেশ থেকে করোনভাইরাস সংক্রমণ অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছে সেই চিন সফরে গিয়েছিলেন। করোনাতঙ্কের মধ্যেই তাঁদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁরা দেশ ছাড়ার আগে ও পরে দুইবার তাঁদের নমুনার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে। দুবারই ফলাফল নেতিবাচক এসেছে। কিন্তু তারপরেও ঝুঁকি নিতে নারাজ গত বছরের ডিসেম্বর থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করা চিন।

জানা গিয়েছে, চিনা কর্তৃপক্ষই পাকিস্তানের ওই তিন শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রনেতাকে দেশে ফিরে অন্তত পাঁচদিন স্ববিচ্ছিন্নতায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এই সময়ে তাঁদের ফের করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হবে। তার ফলও যদি নেতিবাচক আসে, তাহলেই তাদের স্ববিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।

কোভিড-১৯'ধ্বস্ত চিনে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীরা আটকে পড়লেও দীর্ঘদিন পর্যন্ত পাকিস্তান তাদের মাটিতে ই ভাইরাস-এর প্রবেশ আটকাতে পেরেছিল। কিন্তু বর্তমানে ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। পাক সরকার ইরান সীমান্তে আটকে থাকা তীর্থযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর একলাফে পাকিস্তানে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৯-এ পৌঁছেছে। এই তীর্থযাত্রীদের নিজ নিজ প্রদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হলেও ১৪ দিন পর্যন্ত আইসোলেশনে রাখা হবে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে শান্ত তাকার আহ্বান জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। করোনাভাইরাস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সবাইকে এক হয়ে লড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।