নয়া দিল্লি জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাকে প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই ধীরে ধীরে সুর চড়িয়েছিলেন। ভারত-পাক চুড়ান্ত উত্তেজনার পরিবেশে নিজেই পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা উসকে দিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার অনেকটাই সুর নরম করলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সাফ জানিয়ে দিলেন পাকিস্তান প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না।

এদিন পাক প্রধানমন্ত্রী লাহোরে শিখ সম্প্রদায়ের এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি আবারও বলেন, ভারত-পাকিস্তান দুই দেশেরই পারমাণবিক অস্ত্র ভান্ডার রয়েছে। কাজেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে গোটা বিশ্বই বিপদে পড়তে পারে। তবে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার হলে পাকিস্তানের দিক থেকে তা কখনই প্রথমে ব্যবহার করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এখনও পর্যন্ত বিশ্বের যে কটি দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে, তারা অধিকাংশই প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সপ্তাহখানেক আগে অবশ্য ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছিলেন পরিস্থিতি অনুসারে সেই অবস্থান পাল্টাতে পারে। পাকিস্তান কিন্তু প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না বলে কোনও প্রতিজ্ঞা করেনি।

এর আগে তারা রক্ষণাত্মক কারণে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে বলে ঘোষণা করেছিল। ইমরাণের এই দিনের ঘোষণা সেই দিক থেকে ঐতিহাসিক। তবে এর মাধ্যমে পাকিস্তান কিন্তু 'নো ফার্স্ট ইউস' বা এএফইউ নীতি গ্রহণ করল তা বলা যাবে না।

দিন দুই আগে থেকেই পাকিস্তান একপা একপা করে পিছিয়ে যেতে শুরু করেছে। এর আগে পাক বিদেশমন্ত্রী কুরেশি নতুন করে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা তুলেছিলেন। এবার ইমরান আরেক পা পিছলেন। ভারতের সঙ্গে বানিজ্য সম্পর্ক বন্ধ করে পাকিস্তানের বাজার এখন আগুন। বেহাল অর্থনীতিতে ক্ষুব্ধ দেশের মানুষও আর কাশ্মীর প্রশ্নে ইমরানের সঙ্গ দিতে চাইছেন না। কাজেই পাক প্রধানমন্ত্রীর উপর চাপটা যে বেশ এঁটে বসছে, তা বোঝা যাচ্ছে।