বয়ঃসন্ধি-তে একটু এদিক-ওদিক হলেই পা-হড়কে যেতে পারে। সেই কারণে অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি বেশি নজর রাখতে হয়। এমনকিছু কৌশল তাঁদের নেওয়া উচিত যাতে সন্তানরা সেটা-কে কড়া শাসন বলে মনে করে। এখনকার দিনে বেশিরভাগই নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি। ফলে, জয়েন্ট ফ্যামিলির গুরুত্ব কতটা এবং পারিবারিক সম্পর্কগুলো কতটা সততার উপরে দাঁড়িয়ে থাকা উচিত তা জেন ওয়াই-এর পক্ষে বোঝা দুস্কর। তাই পারিবারিক মূল্যবোধ থেকে শুরু করে পারিবারিক সম্পর্কগুলো-র সঙ্গে কীভাবে কাজ করা দরকার তা সন্তানদের মধ্যে ছোট থেকে ঢুকিয়ে দেওয়াটা দরকার। এশিয়ানেট নিউজ নেটওয়ার্কে এমন এক সমস্যার চিঠি এসেছে যেখানে এক সাংঘাতিক বিষয় সামনে এসেছে। এই চিঠি-র প্রেরক একজন কিশোরী। যে তার তুতো ভাই-এর সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। 

চিঠির প্রেরক- আমি মফস্বল শহরের মেয়ে। বড় শহরে পড়াশুনার জন্য আমি বড় শহরে আসি। প্রথমে ঠিক ছিল আমি মেয়েদের হস্টেলেই থাকব। কিন্তু, আমার মাসি-মেসো এবং মাসতুতো ভাই-এর জন্য আর হয়ে ওঠেনি। আমি এবং আমার মাসতুতো ভাই ছোট থেকেই একসঙ্গে মানুষ হয়েছি। বছরের যে সময়গুলোতে আমাদের অ্যাকাডেমিক হলিডে থাকত আমরা সেই সময়টা একসঙ্গেই কাটাতাম। হয় মাসিরা আমাদের বাড়ি চলে যেত অথবা আমরা মাসির কাছে চলে আসতাম। আবার অনেক সময় বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হত। মাসির বাড়িতে ভাই-এর ঘরে-ই আরও একটা সিঙ্গল বেড রাখা থাকত। এটা রাখা ছিল আমার জন্য। আমি এবং ভাই যাতে একসঙ্গে বেশিরভাগ সময়টা কাটাতে পারি এবং একসঙ্গে থাকতে পারি। আমার মাসতুতো ভাই-এর কোনও নিজস্ব ভাই-বোন বা দাদা ছিল না। আমারও একই অবস্থা। আমার থেকে আমার ভাই ২ মাসের ছোট ছিল। আমরা প্রচুর ইয়ার্কি করতাম। একসঙ্গে শুয়ে টিভি দেখতাম। কিন্তু, সমস্যা শুরু হল যখন আমাদের দু'জনের শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তন আসতে থাকল। আমরা নিচু ক্লাস থেকে উপরে উঠছিলাম। এইভাবেই একদিন দুজনে নিজেদের শারীরিক পরিবর্তনগুলো কথা বলছিলাম। বলতে-বলতে আমরা দুজনেই নগ্ন হয়ে একে অপরের শরীরের পরিবর্তনগুলো প্রত্যক্ষ করেছিলাম। প্রথম যেদিন এটা আমরা করেছিলাম সেটা ছিল গ্রীস্মের দুপুর। সামার ভ্যাকেশন চলছিল স্কুলে। এরপর যখনই আমরা দুই ভাই-বোন একসঙ্গে থাকতাম এই ধরনের জিনিসগুলো করতাম। এটা যেন নেশার মতো লাগতো। আমারা একে অপরের নগ্ন শরীরে হাত বুলিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করতাম। সেই বয়সে বুঝিওনি যৌনতা কাকে বলে। শারীরিক সম্পর্কের মানে কী। বা একটা পুরুষ একটি নারীর সঙ্গে কীভাবে মিলিত হয়। আমাদের কৌতুহল একদিন আমাদের দুজনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও তৈরি করে দিল। অপরিপক্ক সেক্সের মজা বিশাল কিছু পেতাম না। কিন্তু ভালোলাগা কাজ করত। উচ্চমাধ্যমিক পাস করে যখন পাকাপাকি মাসির বাড়িতে পড়তে এলাম, তখন দুজনেই খুব খুশি। আমরা বুঝতে পারি যেটা আমাদের মধ্যে চলছে সেটা ঠিক নয়, কিন্তু তাকে অগ্রাহ্যও করতে পারিনি। কলেজে প্রথম বর্ষে রাতে বাড়িতে বাতি নিভলেই আমরা দুজনে যৌনমিলনে মেতে উঠতাম। কিন্তু, এই মুহূর্তে বুঝতে পারছি আর এটা সম্ভব নয়। বাড়ির লোক জানতে পারলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। এতদিনে আমরা দুজনেই কন্ডোমের ব্যবহার থেকে শুরু করে গর্ভনিরোধক বিভিন্ন পিলেও হতযশ করে নিয়েছি। কিন্তু আমি আর চাইছি না এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে। আমার ভাই-এটা মানতে চাইছে না। আমায় সাহায্য করুন। 

এশিয়ানেট নিউজ- তুমি কি সত্যি সত্যি পাগল হয়ে গিয়েছো? ভাই-এর সঙ্গে বোনের কী সম্পর্ক হয়- সেটাকে একবারও মূল্য দিয়ে ভাবার চেষ্টা করেছে? তুমি এবং তোমার ভাই দুজনেই প্রবলভাবে অপরিক্ক কাজ করেছো। ছোটবেলার কৌতুহলকে সে সময় বিচার করতে পারোনি। কিন্তু কলেজে পড়ার সময় অন্তত এটা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছো যে এই সম্পর্ক হওয়ার নয়। যদি, তোমরা মনে কর এই সম্পর্ক অতি উত্তম তাহলে বাইরে একে অপরের হাত ধরছো না কেন, কেন একজন প্রেমিক-প্রেমিকার মতো আচরণ করছো না। কারণ তোমরা জানো যে তোমরা ভাই-বোন এবং যেটা চলছে সেটা ঠিক নয়। তোমাদের বাবা-মা বিশ্বাস করে তোমাদের একসঙ্গে থাকতে দিয়েছেন, মিশতে দিয়েছেন। তোমাদের দুজনের দুজনকে সাহায্য করা উচিত। কোনও সমস্যা হলে অভিভাবকদের জানানো উচিত। সেটা তো করোইনি উল্টে এমনটা একটা সম্পর্কে তোমরা দুজনে জড়িয়েছে যেটা বাড়ির লোক জানতে পারলে সম্পর্কগুলোই শেষ হয়ে যাবে। দুটো পরিবারের মধ্যে বিভেদ তৈরি হবে। তাই অবিলম্বে তুমি হস্টেলে শিফট করো। এবং দুজনের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি করো। বাড়ির লোককে এই সম্পর্কের কথা জানাতে যেও না। হিতে বিপরীত হবে। বরং কোনও একটা ছুতো দিয়ে তুমি মাসির বাড়ি থেকে বের হও। ভাইকে বোঝাতে হবে তোমাদের মধ্যে যেটা হচ্ছে সেটা অনৈতিক। তবে, ভাই-এর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিও না। তুমি যখন এই চিঠিটা লিখেছো, তারমানে তুমি তোমার সমস্যাটাকে বুঝতে পেরেছো। ভাইকেও তোমার মত করে বিষয়টিকে বোঝাতে হবে। দুজনে মিলে কোনও বিশেষজ্ঞ সেক্সোলজিস্টের সঙ্গে কথা বল। তার পরামর্শ শোনো যে একটা স্বাস্থ্যকর যৌন সম্পর্ক বলতে ঠিক কী বোঝায়। এতেও যদি সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে মনোবিদের সাহায্য নাও। একটা জিনিস মাথায় রাখবে যে সম্পর্ককে সমাজের সকলের সামনে স্বীকার করতে পারবে না তাতে বাহাদুরি দেখিয়ে লাভ নেই। এছাড়াও, এই ধরনের সম্পর্কে জন্ম নেওয়া শিশুদের নানা শারীরিক সমস্যাও দেখা দেয়। তাই সাবধান হয়ে যাও এবং দুজনেই সুস্থ এবং স্বাভাবিক যৌন সম্পর্কে জড়াও। 

আরও পড়ুন- উত্তেজনার বশে যোনিতে আটকে গেল প্লাস্টিকের বোতল, ড্রিল মেশিনের দৌলতে কাটল বিপদ

চিঠি প্রেরকের প্রশ্ন- আমার বয়স ২৬। আমার স্বামীর বয়স ৩৮। স্বামী উচ্চ-শিক্ষিত এবং বিশাল পদে কর্মরত। কাজের নেশায় বিয়েটা করতে তাঁর দেরি হয়ে গিয়েছে। তবে, আমার স্বামী ভীষণরকমের হ্যান্ডসাম এবং সুন্দর দেখতে। তাঁর জীবনে কোনও নারী আমার আগে ছিল না এটা বিশ্বাস করাই কঠিন। যদিও, স্বামী-র পার্সোনালিটি এতটাই গুরু-গম্ভীর যে আমি এই বিষয়গুলো নিয়ে বেশি প্রশ্ন করে উঠতে পারিনি। পাছে রাগ করে। আমাদের বিয়ে হয়েছে দেড় বছর। বাসররাতে আমার স্বামী অনেক ভদ্রতা দেখাচ্ছিল। কিন্তু তাঁকে আমি আস্বস্ত করেছিলাম। ফলে, প্রথমরাতেই আমাদের মধ্যে শারীরিক মিলন হয়। এরপর আমরা নিয়মিত শারীরিক মিলন করেছি। আমার স্বামীর যৌনাকাঙ্খা নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই। কিন্তু, সম্প্রতি আমি আবিস্কার করেছি যে আমার স্বামীর মোবাইলে একাধিক পর্ন ভিডিও রয়েছে। এর অনেকগুলো আমাদের বিয়ের আগে-র। সম্প্রতি রাত হলে একটা ফোনও আসছে স্বামীর ফোনে। সেই ফোনে তিনি অনেকটাই ব্যস্ত থাকে এবং অদ্ভুত আচরণ করেন। একদিন, ফোন নিয়ে তিনি স্টাডিতে চলে গিয়েছিলেন। আমি চা-দিতে গিয়ে দেখি স্টাডির দরজাটা বন্ধ। আমি দরজা নক করতেই স্বামী তা খুলে দিয়েছিল। কিন্তু চোখমুখ লাল হয়েছিল। এমনকী এর পাজামার দড়িটাও ছিল আলগা। পাজামাতে এমনকিছু ভেজা দাগ আমি দেখতে পেয়েছিলাম- যা একজন হস্তমৈথুনের সময় করে থাকে। ফোনটা তখনও স্বামীর কানে ছিল। আমার মনে হচ্ছে স্বামী কোনও সম্পর্কে জড়িয়েছেন অথবা ফোন-সেক্স করছেন। আমি বুঝে উঠতে পারছি না কীভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবো। 

এশিয়ানেট নিউজ- বেশি চিন্তা করে লাভ নেই। আপনি যদি হস্তমৈথুনের প্রমাণ পেয়ে থাকেন, তাহলে বুঝে নিতে হবে আপনার স্বামীর বয়স হলেও তারমধ্যে যৌনতার অনেককিছু বাকি রয়েছে। তাই স্বামীর যৌন সক্ষমতা নিয়ে মনে প্রশ্ন রাখবেন না। প্রশ্নটা হল তিনি এই যৌন সক্ষমতাকে কীভাবে পরখ করছেন। এতে এমন কিছু অস্বাভাবিক আচরণ জড়িয়ে রয়েছে কি যাতে আপনাদের দাম্পত্য প্রভাবিত হতে পারে। স্বামীর সঙ্গে বেশি করে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। তবে অন্যে ফোনে গোয়েন্দাগিরিটা বন্ধ করতে হবে। স্বামীর কারোর সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি নেই, সে নিয়ে বেশি মাথা ঘামাতে হবে না। আগে স্বামীকে আপনার প্রতি বিশ্বস্ত করে তুলুন। এর প্রথম ধাপ অবশ্যই স্বামীর মন জয় করা এবং তাঁকে একটা বিশ্বাস দেওয়া। উইকএন্ডে ছোটখাটো একান্ত ট্যুরের প্ল্যান করুন। সপ্তাহে বাইরে কোথাও খেতে যান। স্বামী-কে হাসানোর চেষ্টা করুন। তার যে বিষয়গুলো ভালো লাগে সেগুলো করুন। 

আরও পড়ুন- সদ্য মা হয়েছেন, এই ৮ ধরনের যৌন ক্রীড়া যা মানসিকভাবে তাজা রাখবে