সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ হতে যেমন সুস্থ চিন্তা-ভাবনা ও জীবনযাত্রা দরকার। তেমনি একজন মানুষকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে যৌনতার ভূমিকাও মারাত্মক রকমের। কিন্তু অনেক সদ্য মা হওয়া মহিলাই বুঝতে পারেন না যে তখনই তখনই যৌনতার সুখ নেওয়াটা ঠিক না বেঠিক। অনেকে আবার এই নিয়ে চিকিৎসকদেরও প্রশ্ন করে থাকেন। চিকিৎসাশাস্ত্র বলছে সদ্য মা হলেও যৌনতা স্বাদ নিতে কোনও অসুবিধা নেই। এমন কিছু ধরনের যৌন ক্রীড়া রয়েছে যা সদ্য মা হওয়ারা অনুসরণ করতেই পারেন এবং তাদের যৌন সুখ-কে একটা অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এখানে এমনই ৮ ধরনের যৌন ক্রীড়া সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হল। সদ্য মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়া মহিলারা যা নিশ্চিন্তে অনুসরণ করতে পারেন। 

আরও পড়ুন- এই ছয়টি যোগাসন পোজ, যা আপনার যৌন জীবন সক্রিয় করতে সাহায্য করবে সহজেই

আঙুলের স্পর্শে যৌনসুখ- 
যৌনতার খেলায় আঙুলের বড় ভূমিকা রয়েছে। শুধু আঙুলের স্পর্শেই একজন নারী অর্গাজমের চূড়ান্ত পর্যায়ে বিচরণ করতে পারেন। বলতে গেলে যৌন ক্রীড়াতে আঙুলের খেলা-টা ওয়ার্ম-এর মতো। মানে চূড়ান্ত ম্যাচ খেলতে নামার আগে প্লেয়াররা যেমন গা-ঘামিয়ে নেন। অনেকটা তেমনই। ক্লিনিক্যাল সেক্সোলজি-তে পিএইচডি করা লরিয়েল স্টেইনবার্গ জানিয়েছেন, যোনিতে আঙুল-কে সঠিকভাবে খেলানো যায় তাহলে সেই সুখ কোনও অংশে স্বর্গীয় অনুভূতির থেকে কম কিছু নয়। তাঁর মতে, যোনির নরম টিস্যুর উপরে আঙুলকে ধীরে ধীরে বোলাতে হবে। সদ্য মা হওয়ারা এই যৌন ক্রীড়া অনুসরণ করতে পারেন বলেও মত দিয়েছেন লরিয়েল। তিনি আরও জানিয়েছেন, এতে যোনির  সম্প্রসারণ ঘটে এবং খুব সহজেই বড় আকারের কিছুকে যোনি ধারণ করার ক্ষমতা তৈরি করে ফেলে। লরিয়েল-এর মতে, যৌনতার খেলার শুরু-তেই আঙুল-কে ধীরে ধীরে খেলানোর এই পরিকল্পনা সত্যিকারে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। 

ব্যাথায় আতঙ্ক থাকলে- 
অনেক মহিলাই 'ডিপ পেনিট্রেশন'-এ আতঙ্কে থাকেন। অতিরিক্ত ব্যাথা অনুভব করেন। তারউপরে সদ্য মা হওয়া মহিলাদের যোনির টিস্যু কিছুদিনের জন্য একটু স্টিফ হয়ে থাকে। সেই কারণে, পার্টনারকে নিচে রেখে নিজেকে উপরে রাখাটাই শ্রেয়। উইমেন হেলথ সার্টিফায়েড বিশেষজ্ঞ গিন্ডি নেভিলে-র মতে উপরে থাকা মানে শুয়ে পড়া নয়। পার্টনারের কোমরের কাছে বসতে হবে। এই বসাটা এমন হতে হবে যাতে পার্টনারের যৌনাঙ্গের সঙ্গে অপরজনের যৌনাঙ্গের ব্যাবধান খুব বেশি না হয়। গিন্ডি-র মতে, পার্টনারের যৌনাঙ্গ যোনি-তে প্রবেশ করলেও তা বেশিদূর অগ্রসর হতে পারবে না। কারণ, অপর পার্টনার যেহেতু বসে থাকবেন সেহেতু যোনির টিস্যু একটু চেপে থাকবে। এতে যোনির টিস্যুর টাফনেস একটু যেমন কমবে তেমনি ভিতরের প্রবেশদ্বার একটু সংকুচিত হবে। এই ধরনের পোজ-কে যৌন চিকিৎসাশাস্ত্রে 'বাম্পার'-ও বলা হয়।   

আরও পড়ুন- ১৪ বছরের বান্ধবীকে বিয়ে করলেন নাদাল, ছবির কোলাজে সম্পর্কের রসায়ন

ব্যাথা কম করেও চূড়ান্ত অর্গাজম- 
গর্ভাবস্থায় মহিলাদের কোমরের নিচের অংশ মারাত্মকরকমের চাপ নিতে সক্ষম হয়ে যায়। বিশেষ করে কোমরের ঠিক নিচে পেলভিস অংশের টিস্য়ু প্রচণ্ডরকমের ফ্লেক্সিবল হয়ে যায়। তাই সদ্য মা হওয়া মহিলারা সম্ভোগের শিখরে উঠতে পেলভিস টিস্যুর এই ফ্লেক্সিবিলিটি-র ফায়দা তুলতে পারেন। এতে যোনিতে যেমন কম ব্যাথা অনুভব করা যাবে তেমনি অর্গাজম-এর স্বাদ অসামান্য। পেলভিক পেইন রিলিফ ডট কম-এর প্রতিষ্ঠাতা আইজা হারেরা জানিয়েছেন, এই পোজের জন্য মহিলারা তাঁদের ব্লাডারে ব্যাথা অনেক অনুভব করেন। এই পোজে মহিলাদের শুয়ে পড়ে হাঁটু মুড়ে তা বুকের কাছে নিয়ে আসতে হবে। এতে তাদের যোনি উন্মুক্ত হবে। এবার পার্টনার হাঁটুগেড়ে বসে তার যৌনাঙ্গকে যোনি-র মধ্যে চালনা করবে। পেনিট্রেশন যখন বাড়বে তখন পার্টনারকে এগিয়ে যেতে হবে এবং সঙ্গিনীর পা-কে নিজের পেলভিস অংশে সাঁড়াশির মতো করে চেপে ধরতে দিতে হবে। গিন্ডার মতে, এই সম্ভোগের সময় যে মোমেনটাম তৈরি হয় তা পুরোপুরি বহন করে পেলভিস অংশ। ফলে সঙ্গিনী অনেক আরাম অনুভব করেন। আবার পাশাপাশি যৌনতার সুখকেও চূড়ান্ত পর্যায়ে অনুভব করতে সক্ষম হন। 

আরও পড়ুন- প্রেমিকের রহস্যমৃত্যু, গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ঘোরানো হল গোটা গ্রাম, দেখুন ভিডিও

দ্য রকার
সদ্য মা হওয়াকে সারাক্ষণই সন্তানের পাশে থাকতে হয়। কারণ, সন্তানের আবশ্যিক প্রয়োজনিয়তায় তাকে নজর রাখতে হয়। এই অবস্থাতেও যৌনসুখ নেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে পার্টনার থাকবে পিছনে। পেছন থেকে পার্টনার তার যৌনাঙ্গ চালনা করবেন যোনিতে। এতে যৌনসুখ যেমন মেলে তেমনি সদ্য মা হওয়া মহিলার পেটেও বেশি চাপ পড়ে না। খেয়াল রাখতে হবে এই ধরনের যৌনক্রীড়ায় পার্টনারের পা যেন সঙ্গিনীর পা-এর উপরে চেপে থাকে। 

দ্য পিলো পেট- 
মা হলে অনেক সময়ই যোনি বাড়তি চাপ নিতে পারে না। এই অবস্থা অবশ্য কিছুদিনের জন্য হয়। বিশেষ করে যা স্বাভাবিক পদ্ধতিতে প্রসব করেন তাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি ঘটে। কিন্তু, যৌনতা একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। যৌনসুখ লাভের জন্য মন উন্মুখ হতে পারে। তাই সদ্য মা হওয়া মহিলা এক্ষেত্রে বিছানা বা সোফার উপরে বালিশ বিছিয়ে নিন। এবার সেই বালিশের উপরে শরীরের ঊর্ধ্বাংশ চাপিয়ে দিন। শরীরের নিচের অংশ বালিশ থেকে নামিয়ে রাখুন এবং ডগির মতো পোজ করে নিতম্ব-কে হাঁটুর ভরে তুলে রাখুন। এবার সঙ্গী-কে বলুন একটি বা দুটি আঙুল দিয়ে যোনি পর্দায় আলতো করে বোলাতে। এতে যৌনসুখ চরিতার্থ হবে। অনেকক্ষেত্রে আবার দেখা যায় এই ধরনের যৌনক্রীড়ায় যোনি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস থাকলে সঙ্গীর সঙ্গে যৌন সংযোগ স্থাপন করতে পারেন সঙ্গিনী। 

দ্য হোভারক্রাফট- 
মা হলে শরীর জুড়ে একটা ক্লান্তি থাকে। এই অবস্থায় সটানো শুয়ে পড়ুন। তবে পায়ের হিল যেন সরাসরি বিছানাকে স্পর্শ করে থাকে। এবার পার্টনার-কে উপরে সটানে শুয়ে পড়তে বলতে হবে। পার্টনারের কোমর এবং সঙ্গিনীর কোমর একই মাত্রায় থাকতে হবে। পার্টনার তার কঁনুই দিয়ে সঙ্গিনীর কানের দুপাশ দিয়ে নামিয়ে রাখবে বিছানায়। যাতে কঁনুই পার্টনারের অধিকাংশ ভারটা নিতে পারে। এবার সঙ্গিনী দুহাত দিয়ে পার্টনারের নিতম্বে চাপ দিয়ে দুটো শরীরকে কাছাকাছি টানবে যাতে দুই যৌনাঙ্গ কাছাকাছি আসতে সক্ষম হয়। এই ধরনের পোজকে বলা হয় দ্য হোভারক্র্যাফট। 

দ্য ক্যান ওপেনার
সঙ্গিনীকে সটানে শুয়ে পড়তে হবে। পার্টনার তার লিঙ্গকে সঙ্গিনীর যোনিতে চালনা করবে। সঙ্গিনীর একটি পা থাকবে সোজা এবং অপরটি হাঁটু থেকে মুড়ে বুকের কাছে রাখবে। আর পার্টনার সঙ্গিনীর যোনির কাছে একটি পা-কে হাঁটু থেকে রাখবে ব্যালান্স পাওয়ার জন্য এবং অন্য পা-কে সটানে মেলে রাখবে শক্তিকে সামনে চালনা করার জন্য। সঙ্গী ও সঙ্গিনীকে একেস অপরের ওষ্ঠ দিয়ে কিস করতে হবে।  

হট ক্রস বার্নস
এতে সঙ্গিনী-কে সোফায় শুয়ে পড়তে হবে এবং সোফার ব্যাকরেস্টে-র উপরে সটানে পা তুলে দিতে হবে। এমনভাবে ক্রস করে পা রাখতে হবে যাতে তা সরাসরি সঙ্গির কাঁধে পৌঁছয়। এই পরিস্থিতিতে সঙ্গিনী তার যৌনাঙ্গকে যোনি-তে চালনা করবে। সঙ্গিনী সোফায় শুয়ে ব্যালান্স রাখতে অসুবিধা হলে দুহাত দুপাশে ছড়িয়ে রাখতে পারে। এমনকী, সঙ্গিনী তার নিতম্বে বেশি চাপ অনুভব করলে তলে বালিশ ঠেকা দিতে পারে। একে বলা হয় হট ক্রস বার্নস।