রাত ১২টা বাজলেই নিস্তব্ধ মন্দিরে হঠাৎ করে বেজে ওঠে ঘণ্টা। কেউ থাকে না, তবুও আরতি হয়। স্থানীয়রা বলেন স্বয়ং মহাদেব নাকি মাঝরাতে উঠে ভক্তদের কথা শোনেন। এই অলৌকিক মন্দিরের গল্প শুনলে বিশ্বাস করতেই হবে।

ঈশ্বর আছেন কি নেই, এই তর্ক অনেক দিনের। কিন্তু কিছু জায়গা আছে যেখানে গেলে মনে হয়, হ্যাঁ তিনি আছেন। আর চুপ করে সব দেখছেনও। এমনই একটা জায়গা হল এই মন্দির। নামটা শুনলে হয়তো চিনবেন না, কিন্তু এখানকার কাহিনি শুনলে রাতের ঘুম উড়ে যাবে।

মন্দিরটা দেখতে একদম সাদামাটা। দিনের বেলায় পুজো হয়, ভক্তরা আসে, প্রসাদ পায়। সবই স্বাভাবিক। আসল খেলা শুরু হয় রাত ১২টার পর থেকে।

*মাঝরাতের অলৌকিক ঘটনা*:

স্থানীয় বাসিন্দা আর পুরোহিতরা বলেন, ঠিক রাত ১২টা বাজলেই মন্দিরের ভেতর থেকে টং-টং করে ঘণ্টার আওয়াজ ভেসে আসে। অথচ মন্দিরের দরজা তখন বন্ধ থাকে। ভেতরে কেউ থাকে না। সিসিটিভি লাগিয়েও কাউকে দেখা যায়নি। গ্রামের বয়স্করা বলেন, এটা মহাদেবের আরতির ঘণ্টা। তিনি নাকি মাঝরাতে উঠে নিজেই নিজের পুজো করেন।

আর শুধু ঘণ্টা না। অনেক ভক্তের দাবি, জীবনে যখন তারা সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন, মনে এই মন্দিরের মহাদেবকে ডেকেছেন, তখন স্বপ্নে বা কোনো না কোনো ভাবে সাহায্য পেয়েছেন। কেউ বলেন চাকরি পেয়েছেন, কেউ বলেন অসুখ সেরেছে। তাই দূর-দূরান্ত থেকে লোক ছুটে আসে এখানে মানত করতে।

*কেন এমন হয়?*

পুরোহিতদের মতে, এই মন্দিরে যে শিবলিঙ্গ আছে সেটা `স্বয়ম্ভু`। অর্থাৎ নিজে থেকেই প্রকট হয়েছে। কথিত আছে কয়েকশো বছর আগে এক গরু রাখাল এখানে রোজ দুধ ঢেলে দিত। একদিন মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে এই শিবলিঙ্গ। তারপর থেকেই এখানে পুজো শুরু।

বিজ্ঞান হয়তো এর উত্তর দিতে পারবে না। কিন্তু যে রাতে নিজের কানে ঘণ্টার আওয়াজ শুনেছে, তার কাছে এটা প্রমাণ। ভক্তি আর বিশ্বাসের কাছে যুক্তি মাঝে মাঝে হার মানে।

এই মন্দির আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভগবান দূরে কোথাও নেই। তিনি আছেন আমাদের ডাকের মধ্যেই। মাঝরাতের ওই ঘণ্টার শব্দটা হয়তো আমাদেরই মনে করিয়ে দেয় - "আমি আছি, ভয় পাস না"।