সংসারে অশান্তি লেগেই আছে? চাকরি-ব্যবসায় বাধা? টাকা হাতে থাকছে না? শাস্ত্র বলছে, ঘরে তুলসী গাছ থাকলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। কারণ তুলসীকে দেবী লক্ষ্মীর রূপ বলা হয়। তাই নিয়ম করে তুলসী পুজো করলে জীবনের গতিপথ বদলে যায়।

সংসারে অশান্তি লেগেই আছে? চাকরি-ব্যবসায় বাধা? টাকা হাতে থাকছে না? শাস্ত্র বলছে, ঘরে তুলসী গাছ থাকলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। কারণ তুলসীকে দেবী লক্ষ্মীর রূপ বলা হয়। তাই নিয়ম করে তুলসী পুজো করলে জীবনের গতিপথ বদলে যায়।

পুজোর সঠিক নিয়ম

সবচেয়ে ভালো সময় হল সন্ধ্যাবেলা। সূর্য ডোবার পর স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্রে তুলসী গাছে জল দিন। তারপর ঘিয়ের প্রদীপ ও ধূপ জ্বালান। বৃহস্পতিবার ও একাদশী তিথিতে এই পুজোর ফল দ্বিগুণ হয়। মনে রাখবেন, রবিবার, একাদশী ও সূর্যগ্রহণের দিন তুলসী পাতা ছিঁড়তে নেই।

১. তুলসী পুজোর ধ্যান মন্ত্র:

পুজো শুরুর আগে চোখ বন্ধ করে হাত জোড় করে তুলসী দেবীর ধ্যান করুন। এই মন্ত্র বলুন:

"দেবী ত্বং নির্মিতা পূর্বমর্চিতাসি মুনীশ্বরৈঃ। নমো নমস্তে তুলসী পাপং হর হরিপ্রিয়ে।"

অর্থ: হে দেবী তুলসী, প্রাচীনকালে মুনি-ঋষিরা তোমাকে সৃষ্টি করে পুজো করেছেন। হে হরিপ্রিয়ে, তোমাকে বারবার প্রণাম। তুমি আমার সব পাপ হরণ করো।

তুলসী ধ্যান মন্ত্রের ফল:

এই মন্ত্রে ধ্যান করলে মন শান্ত ও স্থির হয়। পুজোয় একাগ্রতা আসে। তুলসী দেবী প্রসন্ন হয়ে ভক্তের সব পাপ ও নেগেটিভ এনার্জি হরণ করেন। সংসার থেকে অশুভ শক্তি দূর হয়।

২. তুলসী পুজোর মূল মন্ত্র

ধ্যানের পর তিনবার গাছ প্রদক্ষিণ করে এই মন্ত্র ১০৮ বার জপ করুন:

"মহাপ্রসাদ জননী, সর্ব সৌভাগ্য বর্ধিনী, আধি ব্যাধি হরা নিত্যং, তুলসী ত্বং নমোস্তুতে"

অর্থ: হে তুলসী, তুমি সকলের মঙ্গল করো। তুমি সৌভাগ্য বাড়াও। সব রোগ ও দুঃখ দূর করো। তোমাকে প্রণাম।

তুলসী পুজোর মন্ত্রের ফল

এই মন্ত্র নিয়মিত জপে সংসারে শান্তি ফেরে। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া, ছেলে-মেয়ের অবাধ্যতা কমে। শরীরের রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি মেলে। চাকরি ও ব্যবসার বাধা কেটে যায়। কর্মে উন্নতি ও সম্মান লাভ হয়। আটকে থাকা কাজ সম্পন্ন হয়।

তুলসী মালার গুণ

গলায় তুলসী কাঠের মালা পরলে নেগেটিভ এনার্জি ধারে-কাছে ঘেঁষতে পারে না। শাস্ত্র বলে, মৃত্যুর সময় গলায় তুলসী মালা থাকলে যমদূত স্পর্শ করতে পারে না। বিষ্ণু ভক্তদের জন্য এটি ধারণ করা অত্যন্ত শুভ।

তুলসী পাতার ব্যবহার

রোজ সকালে খালি পেটে 3-4টা তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। পুজোর চরণামৃততে তুলসী পাতা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে রবিবার ও একাদশীতে তুলসী পাতা ছিঁড়ে খাওয়া বা দেবতাকে দেওয়া নিষেধ।

তুলসী বিবাহের ফল

কার্তিক মাসের শুক্লা একাদশীতে তুলসী-শালগ্রাম বিবাহ হয়। এই দিন তুলসী পুজো করলে দাম্পত্য জীবনের সব বাধা কাটে। বিবাহে দেরি হলে বা বাধা থাকলে এই তিথিতে পুজো দিলে দ্রুত সুফল মেলে। অবিবাহিত মেয়েরা মনের মতো বর পায়।

বাস্তু মতে তুলসী গাছ

বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণ বা পূর্ব দিকে তুলসী গাছ রাখা সবচেয়ে শুভ। এতে পজিটিভ এনার্জি বাড়ে। দক্ষিণ দিকে কখনও তুলসী গাছ রাখবে না। এতে সংসারে অশান্তি ও অর্থহানি হয়।

গাছ শুকিয়ে গেলে কী করবেন:

তুলসী গাছ শুকিয়ে যাওয়া অশুভ নয়। শাস্ত্র বলছে, এটি বাড়ির বিপদ ও নেগেটিভ শক্তি নিজের উপর টেনে নেয়। তাই গাছ শুকালে মন খারাপ না করে নতুন গাছ লাগাও। শুকনো গাছটা গঙ্গায় বা কোনো পুকুরে ভাসিয়ে দাও। কখনও পোড়াবে না।

কিছু জরুরি নিয়ম:

তুলসী গাছ কখনও মাটিতে বসাবেন না। টবে বা বেদীতে রাখুন। সন্ধ্যার পর গাছে হাত দেবেন না। পুজোর সময় চুল খোলা রাখবেন না। প্রদীপ নিজে থেকে নিভে গেলে ফের জ্বালাবেন না। আর সবচেয়ে জরুরি, মন দিয়ে বিশ্বাস রেখে মন্ত্র জপ করুন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তুলসী তলায় কাঁচা দুধ দিয়ে পুজো করলে বৃহস্পতির দোষ কাটে। বিবাহে বাধা থাকলে এই উপায়ে সুফল মেলে।একটা কথা মাথায় রাখুন, শুধু মন্ত্র জপ করলেই হবে না। কর্মও করতে হবে। তুলসী পুজো আপনার পথের বাধা সরাবে, কিন্তু হাঁটতে হবে আপনাকেই।