আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে অক্ষয় তৃতীয়া, যা হিন্দু ধর্মে একটি অত্যন্ত শুভ দিন। এই দিনটির সঙ্গে পরশুরামের জন্ম, ত্রেতা যুগের সূচনা এবং মহাভারত রচনার মতো একাধিক পৌরাণিক ঘটনা জড়িত। 

আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে অক্ষয় তৃতীয়া। হিন্দু ধর্মে এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে পালিত হয় অক্ষয় তৃতীয়া। এই দিনটি কিছু কেনাকাটা করার জন্য শুভ বলে বিবেচিক হয়। অনেক জায়গায় অক্ষয় তৃতীয়া আখা তিজ নামে পরিচিত। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ শুধু নয়, জৈনরাও এই দিন পালন করে থাকে।

রইল অক্ষয় তৃতীয়ার গুরুত্ব-

প্রচলতি ধারণা অনুসারে, অক্ষয় তৃতীয়ায় বিষ্ণুর দশম অবতার পরশুরামের জন্ম হয়।

অক্ষয় তৃতীয়া থেকেই সত্য যুগের অবসান ও ত্রেতা যুগের শুরু হয়।

অক্ষয় তৃতীয়ায় শ্রীকৃষ্ণের বন্ধু সুদামা তাঁকে অন্ন ভোগ দেন। তার পরিবর্তে কৃষ্ণ তাঁর এই প্রিয় বন্ধুকে সুখ ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ করেন।

মহাভারত অনুসারে বনবাস থাকাকালীন অক্ষয় তৃতীয়াতেই শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে অক্ষয়পাত্র দান করেন। যাতে বনবাসে তাঁদের কখনও খাদ্যাভাব না হয়।

অক্ষয় তৃতীয়া থেকেই বেদব্যাস মহাভারত লেখা শুরু করেন।

অক্ষয় তৃতীয়াতেই ভগীরথের প্রার্থনার স্বর্গ্য থেকে মর্ত্যে নেমে আসেন গঙ্গা।

পুরীতে জগন্নাথের রথযাত্রার রথ তৈরি শুরু হয় অক্ষয় তৃতীয়ায়।

প্রচলিত বিশ্বাস অনিসারে, এই দিন মৃত্যু হলে তাঁর অক্ষয় স্বর্গপ্রাপ্তি ঘটে।

তেমনই মনে করা হয়, অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা বা রূপো কেনা অত্যন্ত শুভ। এই দিন সোনা বা রূপো কিনলে মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ পাওয়া যায়। এদিন সোনা কিনলে পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি বাড়ে। তেমনই নতুন ব্যবসা শুরুর জন্য আদর্শ সময় এটি। আজ পুণ্য অর্জনের জন্য দান, ধ্যান করুন। আজ গরুকে খাওয়ান। এই কাজ শুভ বলে মনে করা হয়। তেমনই পুরাণ মতে, আজ অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি পাপ নাশ ও সমস্ত ধরনের সুখ লাভ করা হয়। এই দিন দান করাও পুণ্যের।

আজ মেনে চলুন এই কয়টি বিশেষ জিনিস। এতে পুণ্য লাভ করবেন। তেমনই জীবনের সকল জটিলতা কেটে যাবে এই শুভ দিনে এই কাজ করলে।