Nil Sasthi 2026: সন্তানের মঙ্গল কামনায় নীলষষ্ঠী, মহাদেবকে পুজো দেওয়ার সঠিক সময় কখন?
Nil Sasthi 2026: ভোলেবাবা মহাদেব ও পার্বতী দেবীর বিবাহের উৎসব হলো নীলপুজো। চৈত্রের সংক্রান্তির দিনে এই পুজো পালিত হয় হিন্দুদের ঘরে ঘরে। কী কারণে নীলষষ্ঠীর পুজো করা হয় জানেন? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

নীলপুজোর মাহাত্ম্য
মহাদেব ও পার্বতী দেবীর শুভ বিবাহ বন্ধনের অনুষ্ঠানই হলো নীলপুজো। চৈত্র মাসের শেষদিন সাধারণত বাঙালি হিন্দুদের ঘরে ঘরে এই পুজো করা হয়। এই পুজো হল দেবাদিদেব মহাদেব এবং নীলচণ্ডী বা দেবী পার্বতীর বিয়ের নানা রীতি নীতি এবং বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পাদিত হয়। এছাড়াও নীল পুজো বা নীল ষষ্ঠী হলো বাংলার এক অত্যন্ত জনপ্রিয় লোক-উৎসব, যা মূলত শিব আরাধনাকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। চৈত্র সংক্রান্তির গাজন উৎসবের ঠিক আগের দিন এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়।
কেন নীল পুজো পালন করা হয়?
এই ব্রতটি মূলত মায়েরা পালন করেন তাঁদের সন্তানদের মঙ্গল এবং দীর্ঘায়ু কামনায়। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, নিষ্ঠার সাথে নীল ষষ্ঠীর ব্রত পালন করলে সন্তানরা রোগমুক্ত ও নিরাপদ থাকে।
নীলষষ্ঠীর আচার-অনুষ্ঠান
উপবাস: ব্রতীরা সারাদিন নির্জলা উপবাস রাখেন।
শিবলিঙ্গে পুজো: বিকেলে বা সন্ধ্যায় শিব মন্দিরে গিয়ে শিবলিঙ্গে গঙ্গার জল, দুধ, বেলপাতা এবং আকন্দ ফুল দিয়ে পুজো দেওয়া হয়।
নীল বাতি: পুজোর প্রধান অঙ্গ হলো মহাদেবের সামনে নীল বাতি (প্রদীপ) জ্বালানো। এই বাতি জ্বালিয়েই মায়েরা তাঁদের সন্তানদের কল্যাণ প্রার্থনা করেন।
পারন: পুজোর পর সাধারণত ফলমূল বা সাবু খেয়ে উপবাস ভাঙা হয়। তবে পরদিন অর্থাৎ সংক্রান্তির দিন পর্যন্ত আমিষ আহার বর্জন করার রীতি অনেকের মধ্যে রয়েছে।
নীলষষ্ঠীর পৌরাণিক ভিত্তি কী?
পুরাণ মতে, সমুদ্র মন্থনের সময় যে বিষ (হলাহল) উঠেছিল, জগতকে রক্ষা করার জন্য মহাদেব সেই বিষ পান করেছিলেন। বিষের প্রভাবে তাঁর কণ্ঠ নীল হয়ে যায়, তাই তাঁর নাম হয় 'নীলকণ্ঠ'। এই বিশেষ রূপকে স্মরণ করেই নীল পুজো করা হয়।
গাজন ও নীলষষ্ঠী পুজো
নীল পুজোর দিন গাজনের সন্ন্যাসীরা দল বেঁধে পাড়ায় পাড়ায় ঘোরে। শিব ও গৌরীর বেশে সঙ সেজে নাচ-গান করা হয়, যাকে লোকভাষায় 'অষ্টক গান' বা 'নীলের গান' বলা হয়। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গান গেয়ে চাল, ডাল বা অর্থ সংগ্রহ করে।
২০২৬ সালের নীলপুজোর সময়সূচি
২০২৬ সালে নীলপুজো বা নীলষষ্ঠী পালিত হবে ১৩ এপ্রিল, সোমবার (২৯ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ)। সাধারণত চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন এই উৎসব পালিত হয়। সকাল: ৭টা ৩ মিনিটের মধ্যে। দুপুর: ১০টা ২২ মিনিট থেকে ১২টা ৫২ মিনিটের মধ্যে। সন্ধ্যা (নীল বাতি দেওয়ার উপযুক্ত সময়): ৬টা ৩৮ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৫৬ মিনিটের মধ্যে। রাত: ১১টা ১৪ মিনিট থেকে রাত ২টো ১৮ মিনিটের মধ্যে।

