Surya Grahan: ৬ মিনিট দিনেই অন্ধকার নামবে পৃথিবীতে, সামনেই আসছে ‘শতাব্দীর গ্রহণ’
২০২৭ সালের ২ আগস্টের সূর্যগ্রহণটিকে খুব বিশেষ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মোট সময়কাল প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যা এটিকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে। এই গ্রহণের সময় দিনের বেলায় অনেক জায়গায় অন্ধকার নেমে আসতে পারে।

শতাব্দীর গ্রহণ বলা হচ্ছে
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাবলীর জন্য ২০২৬ সালকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই বছর ইতিমধ্যে একটি সূর্যগ্রহণ ও একটি চন্দ্রগ্রহণ ঘটে গেছে এবং আরও দুটি গ্রহণ বাকি আছে, যে দুটিই খুব বিশেষ। ২০২৭ সালের সূর্যগ্রহণটি এর দীর্ঘস্থায়ীত্বের কারণে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করছে এবং একে শতাব্দীর গ্রহণ বলা হচ্ছে। তাই, ২০২৭ সালের সূর্যগ্রহণ নিয়ে মানুষের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহল রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রধান সূর্যগ্রহণটি ১২ আগস্ট রাতে শুরু হবে এবং ১৩ আগস্ট সকাল পর্যন্ত চলবে। এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এটি ভারতে সরাসরি দেখা যাবে না। দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণটি ২৭ ও ২৮ আগস্ট রাতে ঘটবে।
গ্রহণটি কোথায় দেখা যাবে?
এই সূর্যগ্রহণটি প্রধানত গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আর্কটিক অঞ্চল এবং ইউরোপের কিছু অংশে দেখা যাবে। এটি ভারতে দেখা যাবে না, তাই সেখানে এর প্রভাব সীমিত বলে মনে করা হচ্ছে। চন্দ্রগ্রহণটি আরও অনেক বড় একটি ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে দেখা যাবে। গ্রহণটি প্রধানত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ ও আফ্রিকা এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও আটলান্টিক অঞ্চলে দেখা যাবে।
ভারতে কি সূতক কাল হবে?
যেহেতু এই গ্রহণটি ভারতে দেখা যাবে না, তাই এখানে সূতক কাল পালন করা হবে না। এর মানে হল মানুষ কোনও বাধা ছাড়াই তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম, প্রার্থনা এবং শুভ কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে পারবে।
২০২৭ সালের সূর্যগ্রহণ কেন বিশেষ?
এবার ২০২৭ সালের সূর্যগ্রহণের কথা বলা যাক, ২০২৭ সালের ২ আগস্টের সূর্যগ্রহণটিকে খুব বিশেষ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মোট সময়কাল প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, যা এটিকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে। এই গ্রহণের সময় দিনের বেলায় অনেক জায়গায় অন্ধকার নেমে আসতে পারে। এটি ঘটে যখন চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে ফেলে। এই সময়ে, আকাশ জুড়ে একটি অনন্য সূর্যাস্তের মতো দৃশ্য দেখা যায়।
ভারতে এর প্রভাব কী হবে?
২০২৭ সালের এই সূর্যগ্রহণ ভারতে দেখা যাবে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে নয়। এর মানে হল সূর্যের কিছু অংশ ঢাকা পড়বে, যা এক বিশেষ দৃশ্য তৈরি করবে, কিন্তু সম্পূর্ণ অন্ধকার হবে না।
একে ‘শতাব্দীর গ্রহণ’ বলা হয় কেন?
এত দীর্ঘ সময় ধরে চলা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ খুব কমই দেখা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন বিরল ঘটনা বহু বছর পর পর ঘটে, যে কারণে একে ‘শতাব্দীর গ্রহণ’ বলা হয়। ২০২৭ সালের এই বিশেষ সূর্যগ্রহণের সময় একটি আকর্ষণীয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পরিস্থিতি তৈরি হবে। সেই সময় চাঁদ পৃথিবীর খুব কাছে থাকবে, অন্যদিকে সূর্য পৃথিবী থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে থাকবে। এর ফলে চাঁদকে আকাশে আরও বড় দেখাবে এবং এটি সূর্যকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে ফেলতে সক্ষম হবে।
ছয় মিনিটের জন্য সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে যাবে
এই গ্রহণের ছায়া নিরক্ষীয় অঞ্চলের চারপাশে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ফলে, যে সমস্ত এলাকায় এই পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখা যাবে, সেই অঞ্চলগুলো দিনের বেলায় প্রায় ছয় মিনিটের জন্য সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে যাবে। এই সময়ের আকাশের দৃশ্য হবে অনন্য। ৩৬০-ডিগ্রি সূর্যাস্তের মতো একটি দৃশ্য দেখা যাবে, যেন দিগন্তের প্রতিটি দিকে সূর্য একই সঙ্গে অস্ত যাচ্ছে। এই বিরল ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা খুব কমই দেখা যায়, যে কারণে এটিকে বিশেষ বলে মনে করা হয়।