বাস্তুশাস্ত্র মতে বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণ বা ‘ঈশান কোণ’ সবচেয়ে পবিত্র ও শক্তিশালী। এই কোণ দেবতাদের স্থান। এখানে নোংরা, ভাঙাচোরা জিনিস বা টয়লেট থাকলে পরিবারে রোগ, অর্থকষ্ট ও মানসিক অশান্তি লেগেই থাকে। আবার ফাঁকা রাখলেও শুভ শক্তি ধরে রাখা যায় না। সন্তানের পড়াশোনায় বাধা, চাকরিতে উন্নতি না হওয়া – সব কিছুর পিছনে থাকতে পারে এই বাস্তু দোষ। 

অফিসে প্রমোশন আটকে আছে? হাজার চেষ্টাতেও টাকা জমছে না? বাড়িতে কেউ না কেউ লেগেই আছে অসুখে? ডাক্তার, জ্যোতিষ সব দেখিয়েও সুরাহা নেই? একবার বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণটা দেখুন তো। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, এই কোণেই লুকিয়ে আপনার সমস্যার আসল কারণ।

হিন্দু শাস্ত্র মতে বাড়ির উত্তর-পূর্ব দিককে বলা হয় ‘ঈশান কোণ’। এই দিকের অধিপতি দেবগুরু বৃহস্পতি ও স্বয়ং মহাদেব। তাই এই স্থান সবচেয়ে পবিত্র, সবচেয়ে পজিটিভ এনার্জির উৎস। সকালের সূর্যের প্রথম আলো এই দিক দিয়েই ঘরে ঢোকে। বাস্তু বলছে, এই কোণ ভারী, নোংরা বা কাটা হলে জীবনে নেমে আসে ঘোর বিপদ।

*ঈশান কোণে এই ৫টি ভুল ডেকে আনে বিপদ:*

*১. ঈশান কোণ ফাঁকা রাখা বা স্টোররুম বানানো*

এই কোণ একদম ফাঁকা, অন্ধকার রাখলে বাড়িতে শুভ শক্তি প্রবেশ করেও ধরে রাখতে পারে না। ফলে সুযোগ এসেও চলে যায়, টাকা হাতে আসার আগেই খরচ হয়ে যায়। এই কোণে স্টোররুম, সিঁড়িঘর বানানো মানেই নিজের উন্নতির রাস্তা বন্ধ করা। সন্তানের মন চঞ্চল হয়, পড়াশোনায় বসতে চায় না।

*২. টয়লেট, ডাস্টবিন বা ঝাঁটার স্থান*

ঈশান কোণে বাথরুম বা টয়লেট থাকা সবচেয়ে বড় বাস্তু দোষ। এর ফলে বাড়ির কর্তার স্বাস্থ্য বারবার খারাপ হয়। মাথা, স্নায়ু ও পেটের রোগ লেগে থাকে। এই কোণে ডাস্টবিন, ঝাঁটা, নোংরা জামাকাপড় রাখলে মা লক্ষ্মী রুষ্ট হন। অর্থনৈতিক অনটন, লোনের বোঝা বাড়তে থাকে।

*৩. রান্নাঘর বা ভারী আসবাব*

এই কোণে রান্নাঘর থাকলে বাড়ির পুরুষ সদস্যদের উন্নতি আটকে যায়। অগ্নি-কোণ দক্ষিণ-পূর্ব, সেখানে রান্নাঘর হওয়া উচিত। ঈশান কোণে ওয়াশিং মেশিন, ফ্রিজ, আলমারির মতো ভারী জিনিস রাখলে গুরু গ্রহ দুর্বল হয়। চাকরি-ব্যবসায় বাধা, সম্মানহানি হয়।

*৪. সিঁড়ি বা সেপটিক ট্যাঙ্ক*

ঈশান কোণ কাটা হলে বা এখানে সিঁড়ি থাকলে বংশবৃদ্ধিতে সমস্যা হয়। পরিবারে কলহ বাড়ে। এই কোণের নিচে সেপটিক ট্যাঙ্ক বা নর্দমা থাকলে তা পরিবারের জন্য অত্যন্ত অশুভ। দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ে।

*৫. ভাঙা, বাতিল জিনিস রাখা*

ভাঙা কাচ, বন্ধ ঘড়ি, খারাপ ইলেকট্রনিক্স জিনিস এই কোণে রাখলে নেগেটিভ এনার্জি তৈরি হয়। মানসিক অবসাদ, ডিপ্রেশন, সিদ্ধান্ত নিতে না পারার সমস্যা দেখা দেয়।

*তাহলে উপায়? রইল ৫টি সহজ বাস্তু প্রতিকার:*

*১. ঠাকুর ঘর বানান:* ঈশান কোণ ঠাকুর ঘরের জন্য আদর্শ। এখানে মন্দির স্থাপন করুন। রোজ সকালে ধূপ-প্রদীপ জ্বালান। পজিটিভ এনার্জি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

*২. পরিষ্কার ও হালকা রাখুন:* এই কোণ সবসময় পরিষ্কার, খোলামেলা রাখুন। জানালা থাকলে খুলে রাখুন যাতে আলো-বাতাস ঢোকে। ভারী আসবাব সরান।

*৩. জলের ব্যবস্থা করুন:* একটি কাচের পাত্রে জল ও ফুল রাখুন। বা ছোট ফোয়ারা রাখতে পারেন। জল হল শুদ্ধির প্রতীক। অর্থপ্রবাহ বাড়ায়।

*৪. হলুদ রং ব্যবহার:* এই কোণের দেওয়ালে হালকা হলুদ বা ক্রিম কালার করুন। হলুদ রং গুরু বৃহস্পতির প্রতীক। ছাত্রদের পড়ার টেবিল এদিকে রাখলে মনোযোগ বাড়ে।

*৫. তুলসী গাছ লাগান:* বাড়ির ঈশান কোণে তুলসী মঞ্চ রাখা খুব শুভ। রোজ সন্ধ্যায় প্রদীপ দিন। নেগেটিভিটি দূর হবে।

*যদি টয়লেট সরানো সম্ভব না হয়?*

ফ্ল্যাট বাড়িতে টয়লেট ভাঙা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে টয়লেটের দরজায় পর্দা লাগান। ভিতরে নীল বাল্ব জ্বালিয়ে রাখুন। একটি বাটিতে লবণ রেখে দিন, সপ্তাহে পাল্টান। বাস্তু পিরামিড বা ৩টি ব্রোঞ্জের মুদ্রা দরজার উপরে লাগাতে পারেন।

মনে রাখবেন, বাস্তু মানে ভয় দেখানো নয়। বাড়ির এনার্জি ব্যালান্স করাই আসল। ঈশান কোণকে গুরুত্ব দিন। ছোট ছোট বদলেই দেখবেন জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরছে।