Vijaya Dashami: বিজয়া দশমীর দিন এই কাজগুলি অবশ্যই করুন, তাহলে ঘুরে যাবে ভাগ্যের চাকা
বিজয়া দশমীর দিনে কিছু বিশেষ কাজ করলে নাকি বদলে যেতে পারে ভাগ্য, এমনটাই বিশ্বাস অনেকের। জেনে নিন বিজয়া দশমীতে করণীয় ১০টি কাজ, যা ঘুরিয়ে দিতে পারে ভাগ্যের চাকা।

দর্পণ বিসর্জন ও অপরাজিতা পূজা
বিজয়া দশমীর সকালে একটি পাত্রে জল নিয়ে তাতে মা দুর্গার প্রতিবিম্ব বা ছায়া দেখা হয়। একেই দর্পণ বিসর্জন বলে। এরপর নীল অপরাজিতা লতা দিয়ে দেবীর পুজো করা হয় এবং সেই লতা পুরুষেরা ডান হাতে এবং নারীরা বাম হাতে ধারণ করেন।
কী মঙ্গল হয়: বিশ্বাস করা হয়, দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে মায়ের আশীর্বাদ সরাসরি আমাদের জীবনে প্রবেশ করে। অপরাজিতা লতা ধারণ করলে জীবনে কোনো কাজে পরাজয় আসে না এবং শত্রু দমিত হয়।

মায়ের বরণ
বিবাহিত মহিলারা শুদ্ধ বস্ত্রে সিন্দুক, পান-সুপুরি, ধান-দূর্বা এবং মিষ্টি নিয়ে মায়ের বরণ করেন। পানের পাতা দিয়ে দেবীর চোখের জল মোছানো হয় এবং মুখে মিষ্টি দেওয়া হয়, ঠিক যেমন ঘরের মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর সময় বিদায় জানানো হয়।
কী মঙ্গল হয়: মাকে খুশি মনে বিদায় জানালে সংসারে সারা বছর অন্ন ও বস্ত্রের অভাব হয় না। এটি পরিবারের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সিঁদুর খেলা
শেষ হওয়ার পর মহিলারা প্রথমে মায়ের চরণে ও সিঁথিতে সিঁদুর অর্পণ করেন। এরপর একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন।
কী মঙ্গল হয়: সনাতন ধর্মে সিঁদুরকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়। এই প্রথার মাধ্যমে বিবাহিত নারীদের সধবা অবস্থা দীর্ঘায়িত হয় এবং স্বামীর দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা সফল হয়।
গুরুজনদের প্রণাম ও আশীর্বাদ
বিজয়ার মূল অঙ্গ হলো পরিবারের এবং চারপাশের বয়োজ্যেষ্ঠ ও গুরুজনদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা। গুরুজনেরা এই দিন মাথায় হাত দিয়ে ছোটদের আশীর্বাদ করেন।
কী মঙ্গল হয়: গুরুজনদের আন্তরিক আশীর্বাদ জীবনে চলার পথে সমস্ত বাধা-বিপত্তি দূর করে। এর ফলে ভাগ্য উদয় হয় এবং জীবনে পজিটিভ শক্তির বিকাশ ঘটে।
কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়
সমবয়সী বা বন্ধুদের সাথে কোলাকুলি বা আলিঙ্গন করা হয় এবং ছোটদের স্নেহ ও ভালোবাসা দেওয়া হয়। সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সবাই সবাইকে বুকে টেনে নেন।
কী মঙ্গল হয়: কোলাকুলির মাধ্যমে পারস্পরিক হিংসা, দ্বেষ ও পুরোনো শত্রুতা মুছে যায়। সমাজে ও পরিবারে একতা, সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়।
মিষ্টিমুখ করানো ও আপ্যায়ন
বিজয়া দশমীর দিন বাড়িতে আসা অতিথি, বন্ধু বা প্রতিবেশীদের মিষ্টি, নিমকি, ঘুগনি বা নারকেলের নাড়ু খাইয়ে আপ্যায়ন করা এক চিরন্তন ঐতিহ্য।
কী মঙ্গল হয়: বাড়িতে আসা অতিথিকে মিষ্টিমুখ করালে বাস্তুদোষ দূর হয়। কথিত আছে, বিজয়ার দিনে মিষ্টি খাওয়ালে সারা বছর পরিবারে মধুরতা বজায় থাকে এবং সম্পর্কের টান বাড়ে।
লজ্জাবতী গাছের পূজা
বিজয়ার দিন (যা দশেরা নামেও পরিচিত) লজ্জাবতী গাছের নিচে প্রদীপ জ্বেলে পুজো করা হয় এবং এর পাতা প্রণাম করে ঘরে আনা হয়। মহাভারতে পাণ্ডবরা অজ্ঞাতবাসের সময় এই গাছেই তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিলেন।
কী মঙ্গল হয়: লজ্জাবতী গাছের পুজো করলে কোষ্ঠীর শনি দোষ কেটে যায়। এটি ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি আনে এবং কর্মক্ষেত্রে বা ব্যবসায় কোনো বড় আর্থিক ক্ষতি হতে দেয় না।
সরঞ্জাম বা শাস্ত্র পূজা
নিজের জীবিকার সাথে যুক্ত জিনিস—যেমন শিক্ষার্থীদের বই-খাতা-কলম, চালকদের গাড়ি, শিল্পী ও মেকানিকদের যন্ত্রপাতি বা ব্যবসায়ীদের খাতা পরিষ্কার করে চন্দন-সিঁদুরের ফোঁটা দিয়ে ধূপ-দীপ দেখানো হয়।
কী মঙ্গল হয়: নিজের কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানালে মা সরস্বতী ও লক্ষ্মী দেবী অত্যন্ত প্রসন্ন হন। এর ফলে সারাবছর বুদ্ধির বিকাশ ঘটে এবং কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি বা ব্যবসায় বিপুল লাভ হয়।
শুভ কাজের সূচনা
বিজয়া দশমীকে শাস্ত্রীয় মতে 'অবুঝ মুহূর্ত' বলা হয়, যার অর্থ এই দিনের প্রতিটি ক্ষণই অত্যন্ত শুভ। তাই কোনো নতুন ব্যবসা শুরু, নতুন চুক্তি স্বাক্ষর বা নতুন কিছু শেখার সূচনা আজ থেকেই করা উচিত।
কী মঙ্গল হয়: এই শুভ দিনে শুরু করা যেকোনো সৎ কাজ বা ব্যবসা দ্রুত সফলতা লাভ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। এতে কোনো গ্রহের কুপ্রভাব বা অমঙ্গল ঘটে না।
নেতিবাচকতা বর্জন
এই দিন যেভাবে রাবণের কুশপুতুল দহন করে অসত্যের অবসান ঘটানো হয়, ঠিক তেমনি নিজের ভেতরের রাগ, অহংকার, লোভ ও হিংসা ত্যাগের প্রতিজ্ঞা করতে হয়।
কী মঙ্গল হয়: মনের ভেতরের নেতিবাচকতা দূর হলে মানসিক শান্তি ও আত্মিক উন্নতি ঘটে। এটি একজন মানুষকে সমাজে সম্মানিত করে তোলে এবং জীবনে ইতিবাচক শক্তির প্রবেশ ঘটায়।





