সেমি ফাইনাল এবং ফাইনালে কলকাতাতেই দুই প্রধানকে হারিয়ে কেরলে ডুরান্ড কাপ নিয়ে গেল গোকুলম এফসি। ফাইনালে যাঁকে নিয়ে সবথেকে বেশি আতঙ্ক ছিল বাগান শিবিরে, সেই মার্কাস জোসেফই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে স্বপ্নভঙ্গ করলেন কিবু ভিকুনার দলের। গোকুলম গোলকিপার উবেইদের ভুলে সমতা ফেরালেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হারল মোহনবাগান। আরও একটি সর্বভারতীয় টুর্নামেন্টে কাপ ঘরে তুলতে ব্যর্থ কলকাতার দুই প্রধান। 

এ দিন শুরু থেকে অবশ্য গোকুলমকে যথেষ্ট চাপেই রেখেছিলেন বেইতিয়া, সালভা চামোরারা। কিন্তু ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে গোকুলম। তার পরেও মার্কাস জোসেফ, হেনরি কিসেক্কা জুটি বাগান রক্ষণে সেভাবে ত্রাস সৃষ্টি করতে পারেননি। কিন্তু প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে মার্কাসের বাড়ানো বল ধরে দেবজিৎকে একা পেয়ে যান কিসেক্কা। গোকুলম স্ট্রাইকারকে আটকাতে মরিয়া হয়ে ফাউল করেন দেবজিৎ। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টি দেন রেফারি। গোল করতে ভুল করেননি মার্কাস। 

দ্বিতীয়ার্ধে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন বাগান সমর্থকরা, তখন ফের ম্যাচের একান্ন মিনিটে কিবু ভিকুনার দলকে ধাক্কা দেন সেই মার্কাস। কেরলের দলটিকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের এগারোতম গোলটি করে ফেলেন গোকুলম স্ট্রাইকার। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও মার্কাস। এর পরে মোহনবাগানের ম্যাচে ফেরার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু খেলার ৬৪ মিনিটে সালভা চামোরোর নেওয়া শট ধরতে গিয়ে ফস্কান গোকুলম গোলকিপার উবেইদ। বরাতজোরে বল ঢুকে যায় গোলে। 

পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো এই সুযোগ অবশ্য কাজে  লাগাতে পারেননি কিবু ভিকুনার ছেলেরা। উল্টে চড়া মেজাজের ম্যাচে বার বার কার্ড বের করতে হয় রেফারিকে। ৮৭ মিনিটে দশজন হয়ে যায় গোকুলম। তার পরে ছ' মিনিট অতিরিক্ত সময় দেন রেফারি। কিন্তু সমতা ফেরাতে পারেননি বেইতিয়া, চামোরারা। লাল হলুদের পর সবুজ মেরুনেও আঁধার নামিয়ে ডুরান্ডের নতুন চ্যাম্পিয়ন হল গোকুলম এফসি।