শুধু ভারতেরই নয়, বিশ্বের বক্সিং মানচিত্রেই তিনি এক কিংবদন্তি। গত বছর তিনি রেকর্ড ছয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। কিন্তু সবকটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের সব কটি সোনাই এসেছে ৪৮ কেজি বিভাগ থেকে। বরাবর এই বিভাগেই লড়েছেন মেরি কম।  কিন্তু অলিম্পিকে এই বিভাগ নেই বলে, ওজন বাড়িয়ে ৫১ কেজির বিভাগে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতীয় বক্সিং রিং-এর রাণি। নতুন ওজন বিভাগে মসৃণভাবে শুরু করে নেপালী প্রতিদ্বন্জ্ মালা রাই-তে পরাজিত করেনি ইন্ডিয়ান ওপেন বক্সিং-এর সেমিফাইনালে পৌঁছে গেলেন। শুধু তিনিই নন, এই প্রতিযোগিতায় এখনও পর্যন্ত ২২ জন ভারতীয় বক্সার পদক পাওয়া নিশ্চিত করেছেন।

এদিন কর্মবীর নবীনচন্দ্র বরদোলোই স্টেডিয়ামে ভারতীয় সমর্থকদের তুমুল করতালি ও হর্ষধ্বণির মধ্যে রিংয়ে প্রবেশ করেন ম্যাগনিফিশেন্ট মেরি। দর্শকদের তিনি একেবারেই হতাশ করেননি। একতরফা প্রাধান্য দেখিয়ে ৫-০ ফলে ম্য়াচটি সহজেই জিতে নেন ৩ সন্তানের মা মেরি।

এতদিন বিদেশে ট্রেন নিচ্ছিলেন। ভারতে ফিরে এসে খুবই আনন্দিত তিনি, বলে জানিয়েছেন এই অলিম্পিক ব্রোঞ্জপদক-জয়ী। তিনি জানিয়েছেন, এই ওজন বিভাগে একেবারেই নতুন বলে তিনি নতুন অনেক কিছুই শিখছেন। নেপালী প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে তাঁর জয় দেখে যতটা সহজ মনে হয়েছে, কার্যক্ষেত্রে ততটা সহজ ছিল না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিকে মন দেবেন বলে মেরি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে নামেননি। সেখানে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন আরেক ভারতীয় বক্সার নিখাত জারিন। সেই জারিনই শেষ চারে মেরির প্রতিপক্ষ। একদিকে যেমন দুই প্রজন্মের দুই সেরা ভারতীয় বক্সারের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দারুণ জমজমনাট হবে বলে আশা করা হচ্ছে, অন্য দিকে দুজনেই ভারতীয় হওয়ায় একটি রৌপ্যপদ ও একটি ব্রোঞ্জ পদকও নিশ্চিত হয়েছে।