Neymar Net Worth: ফুটবল থেকে অবসর নেইমারের, এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার কতটা ধনী?
ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে গিয়েছে নেইমারের স্বপ্ন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন তিনি। খেলা শেষে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি নেমার। মাঠেই কেঁদে ফেলেন। তাঁকে সান্ত্বনা দেন সতীর্থরা।

ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে গিয়েছে নেইমারের স্বপ্ন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন তিনি। এই ম্যাচের পর তিনি চোখে জল নিয়ে বলেছেন, ‘আমি চেষ্টা করেছিলাম। অনেক চেষ্টা করেছিলাম। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই (Met Life stadium) আমি খেলা শুরু করেছিলাম, এখানেই খেলা শেষ করলাম। আমার খেলা শেষ। আমি আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলব না।’

'সেলিব্রিটি নেট ওয়ার্থ'-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ বছর বয়সি নেইমারের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৪৫০ মিলিয়ন ডলার। এই অংকের মধ্যে রয়েছে চারটি ক্লাবে খেলার সুবাদে দুই দশকেরও বেশি সময়ের ফুটবল-আয়, প্রতি বছর প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের 'পুমা' (Puma) বুট চুক্তি এবং ব্রাজিল, মিয়ামি ও দুবাই জুড়ে থাকা বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট বা সম্পত্তির মালিকানা। তাঁর এই আর্থিক উত্থান রাতারাতি ঘটেনি। সান্তোসে থাকাকালীন তিনি ব্রাজিলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিপণনযোগ্য (marketable) কিশোর তারকা ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তখনও বিশ্বজুড়ে তাঁর সেই পরিচিতি গড়ে ওঠেনি। ২০১৩ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি সেই পরিস্থিতি চিরতরে বদলে দেয়। লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে 'এমএসএন' (MSN) ত্রয়ীর অংশ হিসেবে খেলে নেইমার লা লিগা, কোপা দেল রে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করেন। তাঁর বাণিজ্যিক পরিচিতি বা প্রোফাইল বহুগুণ বেড়ে যায়। বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাঁর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে।
এরপর আসে পিএসজি-র অধ্যায়। ২০১৭ সালে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর সেই ট্রান্সফার বা দলবদলটি আজও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল হিসেবে বিবেচিত। এটি নেইমারকে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদে পরিণত করে; ফ্রান্সে থাকাকালীন তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে বেতন, বোনাস এবং ইমেজ রাইটস মিলিয়ে বার্ষিক আয় ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ছিল বলে ধারণা করা হয়।
নেইমারের ক্যারিয়ারের সৌদি অধ্যায়টি ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত লাভজনক। ২০২৩ সালে তাঁকে দলে ভেড়াতে আল-হিলাল পিএসজি-কে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ইউরো দিয়েছি। শুধুমাত্র মূল বেতন হিসেবেই তাঁর বার্ষিক চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলার। আর বোনাস, ব্যক্তিগত ভ্রমণ, আবাসন ও কর্মীদের খরচ-সহ মোট পারিশ্রমিকের পরিমাণ বছরে ১০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল বলে জানা যায়।
তবে পরিস্থিতি দ্রুতই খারাপের দিকে মোড় নেয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের হয়ে খেলার সময় নেইমারের হাঁটুর 'অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট' (ACL) ছিঁড়ে যায়। আল-হিলালের হয়ে তিনি খুব কম ম্যাচই খেলেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ক্লাবটি তাঁর চুক্তি বাতিল করে এবং তিনি সান্তোসে ফিরে যান।
২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পিএসজি-তে তাঁর সময়কালটি চোটের সমস্যা সত্ত্বেও বেশ ফলপ্রসূ ছিল। নেইমার একাধিক লিগ ১ শিরোপা জিতেছেন, পিএসজি-কে ২০২০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তুলতে সহায়তা করেছেন এবং চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার সময়ও তাঁর আয় অব্যাহত ছিল। 'ইমেজ-রাইটস' বা ভাবমূর্তি ব্যবহারের অধিকার বাবদ ক্লাবটির উদার আর্থিক নীতির কারণে, মাঠে খেলার সময় কম হওয়া সত্ত্বেও মাঠের বাইরে তাঁর বিপুল আয় নিশ্চিত ছিল।
ফুটবলের বাইরে নেইমারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক চুক্তিটি হল 'পুমা' (Puma)-র সঙ্গে করা চুক্তি। বছরের পর বছর ধরে নাইকির অন্যতম প্রধান অ্যাথলেট থাকার পর ২০২০ সালে তিনি সেই সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং পুমার সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ধারণা করা হয়, এই চুক্তির মূল্য বছরে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার। এর ফলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই খেলার ইতিহাসে বুট বা খেলার জুতোর প্রচারক হিসেবে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড়দের একজন হয়ে ওঠেন জুতো ছাড়াও নেইমার রেড বুল (Red Bull), বিটস (Beats), জিলেট (Gillette) এবং পোকারস্টারস (PokerStars)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ারের সংখ্যা কয়েক কোটি, যা চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার সময়ও তাঁকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাছে আকর্ষণীয় করে রাখে। মাঠে তাঁর উপস্থিতির ওপর নির্ভর না করেই তাঁর খ্যাতি বজায় থাকে—এটি এমন এক বিরল বাণিজ্যিক গুণ যা অধিকাংশ ফুটবলারেরই নেই।
নেইমারের রিয়েল এস্টেট বা আবাসন সম্পদের তালিকাটিও তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের মতোই বেশ আলোচিত। তাঁর সবচেয়ে পরিচিত সম্পত্তিটি হল রিও ডি জেনিরোর মাঙ্গারাতিবায় অবস্থিত সমুদ্রতীরবর্তী একটি বিশাল বাড়ি বা এস্টেট, যা ২০১৬ সালে প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারে কেনা হয়েছিল। এই বিশাল চত্বরের মধ্যে রয়েছে ছয়টি স্যুট, একটি জিম, টেনিস কোর্ট, ব্যক্তিগত ডক (নৌকা বা প্রমোদতরি ভেড়ানোর জায়গা), হেলিপ্যাড এবং মাটির নীচে ওয়াইন রাখার কক্ষ (ওয়াইন সেলার)। পরবর্তীতে এটি বিতর্কের জন্ম দেয়, যখন নির্মাণকাজ চলাকালীন পরিবেশগত নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৬ মিলিয়ন রিয়েল (প্রায় ৩.৩ মিলিয়ন ডলার) জরিমানা করে।
ব্রাজিলের বাইরেও ২০২৪ সালে তাঁর সম্পদের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি মায়ামিতে অবস্থিত একটি জমির জন্য ২ কোটি ৬০ লাখ (২৬ মিলিয়ন) ডলার ব্যয় করেছেন, যেখানে তিনি ১৩ হাজার বর্গফুটের একটি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন। এ ছাড়া দুবাইয়ের ‘বুগাটি রেসিডেন্সেস’-এ ৫ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার (৫৪.৪৫ মিলিয়ন) ডলার মূল্যের একটি পেন্টহাউস কেনার বিষয়টির সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। ব্যক্তিগত সুইমিং পুল ও গাড়ি ওঠানামার লিফট-সহ এই পেন্টহাউসটিকে ‘স্কাই ম্যানশন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।