ভারতকে একসময় অলিম্পিকে রুপো এনে দেওয়া শাটলার পি ভি সিন্ধুর যে সোশ্যাল মিডিয়াতে রীতিমতো একটিভ তা সকলেই জানেন। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে হাজার হাজার ফলোয়ার রয়েছে তার। আর তাদেরকেই নিজের ‘অবসর’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ব্যাতিব্যস্ত করে তুলেছিলেন এই মুহূর্তে ভারতের সেরা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। এদিন দুপুরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘আই রিটায়ার’ লেখা একটি পোস্ট করেন সিন্ধু। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন ডেনমার্ক ওপেন তার পেশাদারী কেরিয়ারের শেষ প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট ছিল এবং এখন তিনি অবসর নিতে চলেছেন।

টুইটারে তিনি এই অবসর নেওয়া সংক্রান্ত তিনটি ছবি পোস্ট করেন। প্রথম স্লাইডটিতে তিনি লেখেন, ‘অবসর নিচ্ছি’। সঙ্গে লেখা ছিল ডেনমার্ক ওপেনই আমার তার শেষ টুর্নামেন্ট ছিল দ্বিতীয় স্লাইডে সিন্ধু আরও লেখেন,”আমার এই সিদ্ধান্ত বহু ফ্যানেদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকেই আমার অবসর নিয়ে ধন্ধে রয়েছেন। যদিও আমি বেশ কিছুদিন ধরেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভেবেছি এবং শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললাম।’ সঙ্গে সিন্ধু আরও লেখেন, ‘সাম্প্রতিক মহামারীর সময়টা আমার জ্ঞানচক্ষু খুলে দিল। আমি অনেক পরিশ্রম করে একটা ম্যাচ জিততে পারি। ম্যাচের শেষ শট পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে পারি। কিন্তু অদৃশ্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয়।”এর সাথে চার বছর আগে ব্রাজিলের রিও অলিম্পিকে ভারতের হয়ে রুপোজয়ী এবং প্রাক্তন বিশ্বের পয়লা নম্বর মহিলা আরও যোগ করেন, ”ভাইরাসের কবলে বিশ্বজুড়ে মানুষের মৃত্যুর খবর তার মন আর নিতে পারছে না। প্রতিদিন এই খবর শুনে যেতে হচ্ছে। এই নিয়ে নিজেই নিজেকে শেষ কয়েকদিন ধরে অনেক প্রশ্নর মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছি, শেষমেষ অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তই শ্রেয় মনে হল।”

কিন্তু সিন্ধুর শেষ স্লাইডটি পড়ে তার ভক্তরা নিশ্চিন্ত হন। সেখানে এই প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন লেখেন,” ভাইরাস সংক্রমিত দুনিয়ার বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি, ভয়ের পরিবেশ, নেতিবাচকতা থেকে অবসর নিলাম। তার সাথে সাথে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদাসীন মানসিকতাকে অবসরে পাঠালাম।’ এরপরই সিন্ধু আরও লেখেন, ‘পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে আমাদের সবাইকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে আরও সচেতন হতেই হবে। এই পোস্টে আমার বহু ভক্তকে আমি হয়ত মিনি হার্ট অ্যাটাক দিয়ে বসলাম, আসলে আমি বলতে চেয়েছি আঁধার কাটিয়ে আলো ফুটবেই। করোনাকালে ডেনমার্ক ওপেন না হওয়ার কারণে আমি আমার ট্রেনিং তো থামাইনিই বরং দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে করতে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছি। ভয়কে জয় করে আমি রুখে দাঁড়ালাম। আপানারাও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হাল না ছেড়ে আরও বেশি সচেতন হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে আসুন।”