মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অযোধ্যায় মাতা সীতার জীবন ও আদর্শের উপর ভিত্তি করে 'বৈদেহী আর্ট গ্যালারি' তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এই গ্যালারি মাতা সীতার ত্যাগ, মর্যাদা এবং শক্তিকে জীবন্ত অভিজ্ঞতা হিসাবে তুলে ধরবে।
লখনউ। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শ্রীঅযোধ্যা ধামে মাতা সীতার জীবন ও আদর্শের উপর ভিত্তি করে 'বৈদেহী আর্ট গ্যালারি' তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার আবাসন ও নগর পরিকল্পনা বিভাগের একটি পর্যালোচনা বৈঠকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মাতা সীতা ভারতীয় সংস্কৃতি, মর্যাদা, করুণা এবং নৈতিক মূল্যবোধের এক অনন্য প্রতীক। নতুন প্রজন্মকে তাঁর জীবন ও চরিত্রের সঙ্গে গভীরভাবে পরিচয় করানো আজকের সময়ের একটি বড় প্রয়োজন।
আধুনিক প্রযুক্তিতে মাতা সীতার জীবনকে জীবন্ত করার পরিকল্পনা
আর্ট গ্যালারির রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে এই গ্যালারি শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প-সংগ্রহশালা হবে না, বরং মাতা সীতার জীবন, ত্যাগ, ধৈর্য, শক্তি এবং মর্যাদাকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুনভাবে তুলে ধরবে। তিনি বলেন, গ্যালারিটিকে এমনভাবে তৈরি করা উচিত যাতে এটি একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা কেন্দ্র হয়ে ওঠে, যেখানে দর্শনার্থীরা শুধু তথ্যই পাবেন না, মাতা সীতার জীবনদর্শনকে অনুভবও করতে পারবেন।
গল্প, নকশা এবং ভিজ্যুয়াল ভাষায় ফুটে উঠবে দিব্য ঐতিহ্যের ভাবনা
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নির্দেশ দিয়েছেন যে গ্যালারির গল্প, স্থাপত্য, নকশা, ভিজ্যুয়াল ভাষা, শিল্প এবং প্রযুক্তি—সবকিছুতেই এই ভাবনা ফুটে ওঠা উচিত যে আমরা একটি দিব্য এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে নতুনভাবে পাঠ করছি। তিনি বলেন, গ্যালারির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত যাতে দর্শনার্থীরা মাতা সীতার জীবন-বার্তা শুধু দেখবেনই না, বরং অনুভব করবেন, বুঝবেন এবং নিজেদের জীবনে গ্রহণ করবেন।
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের কাছে সম্ভাব্য উন্নয়নের স্থান
অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে এই প্রকল্পটি শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের কাছে অবস্থিত বশিষ্ঠ ভবন চত্বরে তৈরি করা যেতে পারে। এই এলাকাটি প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ভক্তদের আনাগোনার কেন্দ্র। তিনি বলেন, বৈদেহী আর্ট গ্যালারির নির্মাণ অযোধ্যাকে একটি বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
মিথিলা সংস্কৃতি এবং লোক ঐতিহ্যকে বিশেষ স্থান দেওয়া হবে
মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে এই গ্যালারিতে মিথিলার সংস্কৃতি, লোক ঐতিহ্য, শিল্প, চিত্রকলা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশেষভাবে প্রদর্শন করা উচিত, যাতে মাতা সীতার মূল সাংস্কৃতিক পরিবেশকে সঠিকভাবে তুলে ধরা যায়।


