নাইজেরিয়ার কনটেন্ট ক্রিয়েটার লোবিস্টারস জন (Lobistars John) সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় নজির গড়েছেন। মাস্কের এক্স (X, আগে টুইটার) প্ল্যাটফর্ম থেকে তিনি মাসে প্রায় ৪ হাজার ২৯৭ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩.৭৫ লক্ষ টাকা আয় করছেন।
Lobistars John X Income: একজন খুব সাধারণ কনটেন্ট ক্রিয়েটারের মাসিক রোজগার ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা! মনে হতেই পারে নিশ্চই কোনও জনপ্রিয় ইউ টিউবারের এমন রোজগার করছেন। কিন্তু না। নাইজেরিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার লোবিস্টারস জন মাসে ৪ হাজার ২৯৭ মার্কিন ডলার রোজগার করছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি কোনও জনপ্রিয় ইউ টিউবার নন। এই নাইজেরিয়ান আকাশছোঁয়া অর্থ রোজগার করছেন ধনকুবের শিল্পপতি ইলন মাস্কের এক্স (আগে বলা হত টুইটার) প্ল্য়াটফর্ম থেকে। যে প্ল্যাটফর্ম নিয়ে ভারতে তেমনভাবে ভাবেন না কনেটন্ট ক্রিয়েটাররা। টুইটার কিনে নাম বদলে এক্স রাখার পর ২০২৩ সাল থেকে মাস্ক এই প্ল্য়াটফর্মে কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের জন্য 'ক্রিয়েটার রেভিনিউ শেয়ারিং' নামার একটি বিশেষ মনিইটাইজেশন প্রোগাম চালু করেছেন। এই প্রোগামের মাধ্যমে এক্স প্ল্য়াটফর্মে খবর, তথ্য, ভিডিও, ছবি নানা জিনিস আপলোড করলে, কোনও পোস্টে কমেন্ট করলে, বা এনগেজমেন্ট বাড়ানোর মত কোনও কাজ করলে অর্থ রোজগারের সুযোগ দেয়। এই কাজটা করেই মাসে ৪ লক্ষ টাকা রোজাগর করছেন নাইজেরিয়ার জন।

কীভাবে এক্স থেকে এত অর্থ রোজগার জনের
সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় রাতারাতি সাফল্যের গল্প নতুন নয়, তবে নাইজেরিয়ার ইনফ্লুয়েন্সার লোবিস্টারস জন (Lobistars John) যা করে দেখালেন, তা সত্যিই চমকপ্রদ। এক্স (আগে বলা হত টুইটার)-এ তাঁর আসল হ্যান্ডল john322226। সেখানে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। লোবিস্টারস জন মূলত জুয়ার আসক্তি থেকে মুক্তি, সামাজিক বিষয়ে সচেতনতা এবং ক্রুজ ভ্রমণ সংক্রান্ত ভাইরাল কনটেন্ট তৈরি করেন। সম্প্রতি এক্স-এর Creator Revenue Sharing Program থেকে মাত্র এক মাসে তিনি আয় করেছেন ৪,২৯৭ ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ ৭৫ টাকা, আর নাইজেরিয়ান মুদ্রায় প্রায় ৬ মিলিয়ন নাইরা। মাত্র দুই সপ্তাহে ১১ কোটি ৪২ লক্ষ ইমপ্রেশন এনে দেয় এই বিপুল অঙ্কের পেআউট। আরও পড়ুন- ইনস্টাগ্রামে ভালো কনটেন্ট বানালেও ফলোয়ার বাড়ছে না? দ্রুত রিচ বাড়াতে ফলো করুন সহজ কিছু টিপস
কনটেন্ট স্ট্র্য়াটেজি কী, রিচ কত
নিজের জীবনের কঠিন লড়াই, বিশেষ করে গ্যাম্বলিং আসক্তির অভিজ্ঞতাকে কনটেন্টে রূপ দিয়েই তাঁর উত্থান। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে তিনি দাবি করেন, নিজের প্রজন্মের মধ্যে তিনিই প্রথম যিনি শুধুমাত্র টুইট করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছেন। প্রায়শই পেআউটের স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি অন্য নাইজেরিয়ান ক্রিয়েটরদেরও অনুপ্রাণিত করেন। এক্সে মাত্র ১০ মাসে তাঁর ইমপ্রেশন ছুঁয়েছে ১ বিলিয়ন। এক্স থেকে আয় করতে হলে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন, কমপক্ষে ৫০০ ফলোয়ার এবং মাসে ৫০ লক্ষ ইমপ্রেশন প্রয়োজন। কনটেন্টের জন্য হোটেলে থাকা, লাইভ স্ট্রিম সবেতেই বিনিয়োগ করেন লবিস্টারস।
ডিজিটাল দুনিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের স্বর্গরাজ্য হল ইউ টিউব। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক-এর মত প্ল্যাটফর্মে রোজগার করা যায় ঠিকই, কিন্তু ইউ টিউবের মত সম্মানজনক 'পেমেন্ট স্ট্রাকচার'আর কারও নেই। তাই দুনিয়ার যে কোনও বয়সের কাছে, যে কোনও দেশে ইউ টিউবের জনপ্রিয়তা বাকিদের থেকে অনেক বেশি। কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের ইউ টিউব যত অর্থ 'পে আউট'বা মনিটাইজেশেনর মাধ্যমে দেয় তার ধারেকাছে যেতে পারে না বাকিরা। এই বিষয়টার জন্যই ইউ টিউবকেই পাখির চোখ করে এগোন বেশিরভাগ কনটেন্ট ক্রিয়েটার। তবে এবার ডিজিটাল দুনিয়ায় কনটেন্ট বানিয়ে রোজগার করা বা কেরিয়ার বানানোর ইচ্ছুকদের জন্য সুখবর। দুনিয়ার ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্কের মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্স (আগে নাম ছিল টুইটার)। মাস্ক তার নিজের প্ল্যাটফর্ম Xকে দুনিয়ার সবার কাছে পছন্দের করে তুলতে কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের জন্য অর্থের ভান্ডার কুলে দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

