আপনার ফোন নম্বরটা হোয়াটসঅ্যাপ লগইন,ব্যাংক OTP, ফেসবুক রিসেট - সবকিছুর চাবি। স্ক্যামাররা এই ১০ ডিজিট পেলেই আপনার ব্যাংক খালি, আইডি হ্যাক, এমনকি ক্রাইমের ফাঁসাতেও পারে। ফর্ম ফিলাপ, লটারি, চাকরির লোভ - কোথায় কোথায় নম্বর দিয়ে ফেলছেন ভাবুন।

আগে মানুষ চাবি চুরি করত। এখন চাবি চুরি করে না, ফোন নম্বর চুরি করে। কারণ আপনার ফোন নম্বর দিয়েই ব্যাংক আপনাকে চেনে, OTP পাঠায়। ফেসবুক-ইনস্টা রিসেট করে। UPI, Paytm, Google Pay সব লিঙ্ক। আপনি ভাবছেন "নম্বর তো সবাই জানে"। কিন্তু স্ক্যামাররা এই "সবাই জানে" জিনিসটাকেই অস্ত্র বানায়। একবার নম্বর লিক হলে আপনার পার্সোনাল লাইফ, টাকা, সম্মান - সব ঝুঁকিতে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আপনার ফোন নম্বর দিয়ে স্ক্যামাররা যা করতে পারে:

১. OTP স্ক্যাম করে ব্যাংক খালি করবে :

কীভাবে করে: আপনাকে ফোন করে বলবে "স্যার, আপনার KYC আপডেট করতে হবে। OTP বলুন"। বা WhatsApp-এ মেসেজ আসবে "আপনি ২৫০ টাকার লটারি জিতেছেন। OTP দিন"।

ক্ষতি কী হবে: OTP বলা মাত্র আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, UPI, Paytm থেকে টাকা উধাও। ব্যাংক বলবে "OTP আপনি নিজে দিয়েছেন, আমরা দায়ী না"।

মনে রাখবেন: ব্যাংক, RBI, পুলিশ কেউ কখনো OTP চায় না। চাইলেই বুঝবেন ফ্রড।

২. সিম সোয়াপ করে আপনার নম্বর হাইজ্যাক করবে

কীভাবে করে: আপনার ডিটেইল দিয়ে ডুপ্লিকেট সিম তুলে নেবে। তারপর আপনার নম্বর অফ হয়ে যাবে। স্ক্যামারের ফোনে সব OTP আসবে।

ক্ষতি কী হবে: আপনার WhatsApp, Gmail, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সব ওর কন্ট্রোলে। লোন নেবে, বন্ধুদের কাছে টাকা চাইবে, প্রাইভেট ফটো লিক করবে। প্রমাণ করতে আপনার ৬ মাস কেটে যাবে।

বোঝার উপায়: হঠাৎ নেটওয়ার্ক চলে গেলে, "No Service" দেখালে সাবধান। সঙ্গে কাস্টমার কেয়ারে কল করুন।

৩. ফেক কল-ফেক মেসেজে আপনাকে ফাঁসাবে:

কীভাবে করে: আপনার নম্বর দিয়ে WhatsApp গ্রুপ খুলে চিটিং করবে। বা আপনার নামে ফেক Facebook ID খুলে মেয়েদের মেসেজ করবে।

ক্ষতি কী হবে: পুলিশ আপনার বাড়িতে আসবে। "এই নম্বর থেকে ফ্রড হয়েছে"। আপনি প্রমাণ করুন যে আপনি না। হয়রানি, বদনাম - সব ফ্রিতে।

সাবধানতা: ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে "Two Factor Authentication" অন করুন। নম্বর দিয়েই লগইন হবে না।

৪. স্প্যাম আর বিরক্তির বন্যা বইয়ে দেবে:

কীভাবে করে: আপনার নম্বর ডার্ক ওয়েবে ৫ টাকায় বিক্রি হয়ে যায়। তারপর লোন কোম্পানি, জুয়ার সাইট, বাজে অ্যাপ থেকে দিনে ৫০টা কল-মেসেজ আসবে।

ক্ষতি কী হবে: ঘুম হারাম। গুরুত্বপূর্ণ কল মিস হবে। বিরক্ত হয়ে একদিন ফোনই বন্ধ করে দেবেন।

টিপস: Truecaller, DND সার্ভিস চালু করুন। অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না।

ফোন নম্বর সেফ রাখতে ৪টি লোহার নিয়ম:

নিয়ম ১ - যেখানে সেখানে নম্বর দেবেন না

ফ্রি রিচার্জ, লটারি, চাকরির ফর্ম - এসবের জন্য নম্বর দিচ্ছেন তো? দাঁড়ান। আগে ভাবুন ওই কোম্পানি ট্রাস্টেড কিনা। প্রয়োজন না হলে অল্টারনেট নম্বর দিন। OTP-র জন্য আলাদা সিম রাখতে পারেন।

নিয়ম ২ - OTP কাউকে বলবেন না:

মা-বাবা-ভাই-বোন হলেও না। ব্যাংক, WhatsApp, Google - কেউ OTP চাইবে না। স্ক্রিনে আসা ৬ ডিজিট নিজের কাছেই রাখুন। মুখে বলা মানে টাকা দেওয়া।

নিয়ম ৩ - সিম লক আর 2FA চালু করুন:

ফোনের সেটিংসে গিয়ে SIM PIN লক করুন। WhatsApp, Gmail, Facebook-এ "Two Step Verification" অন করুন। তাহলে শুধু নম্বর দিয়ে কেউ লগইন করতে পারবে না।

নিয়ম ৪ - অচেনা লিঙ্কে ক্লিক না

"আপনার KYC ব্লক হবে, এই লিঙ্কে ক্লিক করুন" - এই মেসেজ দেখলেই ডিলিট। লিঙ্কে ক্লিক করলেই আপনার ফোন হ্যাক। স্ক্যামার আপনার সব ডিটেইল পেয়ে যাবে।

স্ক্যামের শিকার হলে ৩টে কাজ করুন

১. সঙ্গে ব্যাংকে কল: ১৯৩০ নম্বরে কল করুন। এটা সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন। টাকা আটকানোর ৯০% চান্স এখানেই।

২. সিম ব্লক করুন: কাস্টমার কেয়ারে কল করে সিম ব্লক করান। নতুন সিম তুলুন।

৩. পুলিশে FIR: নিকটবর্তী থানায় বা http://cybercrime.gov.in-এ কমপ্লেইন করুন। প্রমাণ রাখতে স্ক্রিনশট, কল রেকর্ডিং সেভ করুন।

শেষ কথা:

ফোন নম্বর শেয়ার করা মানে ঘরের চাবি পাড়ার দোকানে ঝুলিয়ে রাখা। দরকার ছাড়া দেবেন না। দিলেও সাবধানে দিন। মনে রাখবেন, OTP মানে "One Time Password", "One Time Problem" না। একবার দিয়ে দিলে সমস্যা সারাজীবনের।

এটা জেনারেল সচেতনতা। সাইবার ফ্রডের শিকার হলে ১৯৩০ হেল্পলাইনে বা নিকটবর্তী সাইবার থানায় যোগাযোগ করুন। সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন।