প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর সমুদ্রতলে বিজ্ঞানীরা এমন হাজার হাজার ভাইরাসের সন্ধান পেয়েছেন, যেগুলি সম্পর্কে আগে কোনও তথ্য ছিল না। গবেষণায় মোট ১১,৭৪২টি ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে ১১,৬৬২টি ভাইরাস বিজ্ঞানের কাছে সম্পূর্ণ অজানা ছিল। আরও চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হল, এই ভাইরাসগুলির প্রোটিনের মাত্র প্রায় ৪ শতাংশের সঙ্গে আগে থেকে থাকা তথ্যের মিল পাওয়া গিয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর সমুদ্রতলে বিজ্ঞানীরা এমন হাজার হাজার ভাইরাসের সন্ধান পেয়েছেন, যেগুলি সম্পর্কে আগে কোনও তথ্য ছিল না। গবেষণায় মোট ১১,৭৪২টি ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে ১১,৬৬২টি ভাইরাস বিজ্ঞানের কাছে সম্পূর্ণ অজানা ছিল। আরও চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হল, এই ভাইরাসগুলির প্রোটিনের মাত্র প্রায় ৪ শতাংশের সঙ্গে আগে থেকে থাকা তথ্যের মিল পাওয়া গিয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, গভীর সমুদ্রে খনিজ উত্তোলনের ফলে এই অজানা জীবজগতের ক্ষতি হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ৬,০০০ মিটার গভীরে অবস্থিত ক্ল্যারিয়ন-ক্লিপারটন জোনে (Clarion-Clipperton Zone) এই ভাইরাসগুলির সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। মেক্সিকো ও হাওয়াইয়ের মাঝামাঝি বিস্তৃত এই অঞ্চলে নিকেল, কোবাল্ট ও ম্যাঙ্গানিজের মতো মূল্যবান ধাতুর বিপুল ভাণ্ডার রয়েছে। চিনের গবেষকদের একটি দল সমুদ্রের তলদেশ থেকে মাটি ও পলির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেন। সেই নমুনা বিশ্লেষণ করেই এই ভাইরাসগুলির সন্ধান পাওয়া যায়। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Nature Communications পত্রিকায়।
১১,৬৬২টি ভাইরাস সম্পর্কে আগে কোনও তথ্য ছিল না!
গবেষণায় মোট ১১,৭৪২টি ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১,৬৬২টি ভাইরাস আগে বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা ছিল। অর্থাৎ, এই অঞ্চলে পাওয়া ভাইরাসগুলির বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ সম্পর্কেই আগে কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল না। গবেষকরা ভাইরাসগুলির প্রোটিনের গঠন ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেছেন। দেখা গিয়েছে, সেগুলির প্রোটিনের গুচ্ছের মাত্র প্রায় ৪ শতাংশের সঙ্গে আগে থেকে নথিভুক্ত তথ্যের মিল রয়েছে। এই আবিষ্কার থেকে স্পষ্ট, সমুদ্রের গভীরে এমন এক বিশাল অণুজীবজগৎ রয়েছে, যার সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের জ্ঞান এখনও অত্যন্ত সীমিত।
এই ভাইরাস কি মানুষের জন্য বিপজ্জনক?
এই আবিষ্কারের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নতুন ভাইরাসগুলি কি মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে? গবেষণায় পাওয়া অধিকাংশ ভাইরাস Caudoviricetes গোষ্ঠীর অন্তর্গত। এই গোষ্ঠীর ভাইরাসগুলির লেজের মতো গঠন থাকে এবং এরা মূলত ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে। ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে নিজেদের জিনগত উপাদান প্রবেশ করিয়ে তারা সংক্রমণ ঘটায়। তাই বর্তমানে এই ভাইরাসগুলিকে মানুষের জন্য সরাসরি বিপজ্জনক বলে মনে করার কোনও ভিত্তি নেই। তবে এদের বৈশিষ্ট্য, কার্যকলাপ এবং গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রে ভূমিকা সম্পর্কে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
সমুদ্রের পরিবেশে কী ভূমিকা রয়েছে এই ভাইরাসগুলির?
সমুদ্রের তলদেশে সূর্যের আলো পৌঁছয় না বললেই চলে। সেখানে পুষ্টি উপাদানও তুলনামূলকভাবে কম। এমন প্রতিকূল পরিবেশেও ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের মতো অণুজীবের অস্তিত্ব রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ভাইরাসগুলি সমুদ্রের ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ভাইরাসের সংক্রমণে ব্যাকটেরিয়া ভেঙে গেলে বিভিন্ন জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান পরিবেশে ফিরে আসে। এর ফলে কার্বন, নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের মতো উপাদানের পুনর্ব্যবহার সম্ভব হয়। এই প্রক্রিয়া সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই ভাইরাসগুলির সংখ্যা বা কার্যকলাপে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটলে তার প্রভাব সমুদ্রের অন্যান্য জীবের উপরেও পড়তে পারে।
গভীর সমুদ্রে খনিজ উত্তোলন নিয়ে কেন উদ্বেগ?
ক্ল্যারিয়ন-ক্লিপারটন জোনে নিকেল, কোবাল্ট ও ম্যাঙ্গানিজের মতো ধাতু পাওয়া যায়। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি-সহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তিতে এই ধাতুগুলির চাহিদা রয়েছে। ফলে সমুদ্রের তলদেশ থেকে খনিজ উত্তোলনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু গভীর সমুদ্রে খনন চালানোর সময় তলদেশের মাটি ও পলি নড়াচড়া করবে। এর ফলে সেখানকার অণুজীবের বাসস্থান ও পরিবেশ বদলে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে বিদ্যমান জটিল সম্পর্কও। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা তৈরি হওয়ার আগেই ব্যাপক খনন শুরু হলে সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তবে খননের ফলে এই নির্দিষ্ট ভাইরাসগুলির ইতিমধ্যেই ক্ষতি হয়েছে, এমন প্রমাণ এই গবেষণায় পাওয়া যায়নি।






