চিন সরকারের হয়ে কাজ করা হ্যাকাররা এখন নিশানা করেছে করোনভাইরাস-এর সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরির সংস্থাগুলিকে। তারা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্থার কোটি কোটি ডলারের বৌদ্ধিক সম্পত্তি এবং ব্যবসায়িক কৌশল চুরি করছে। মঙ্গলবার মার্কিন বিচার বিভাগ এক ফৌজদারি মামলার রায়ে এই কথাই বলেছে।

এই মামলায় লি জিয়াওউ এবং ডং জিয়াজি নামে দুই চিনা নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। গত ১০ বছর ধরে তারা ব্যক্তিগত লাভের জন্য এবং চিন সরকারের পক্ষে মূল্যবান এমন সব গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত তথ্য চুরি করেছিল। এই আসামীদের উপর সরাসরি করোনাভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণার তথ্য চুরির দোষ না চাপানো হলেও বলা হয়েছে এই ঘটনাই দেখিয়ে দিচ্ছে বৈদেশিক সরকার এবং অপরাধী হ্যাকাররা কীভাবে মার্কিন ও বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থাগুলিরর চলতি মহামারী সংক্রান্ত গবেষণা ও উদ্ভাবন-কে নিশানা করছে।

এই দুই চিনা হ্যাকারের বিরুদ্ধে ট্রেড সিক্রেট চুরি এবং ওয়্যার ফ্রড-এর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা দশটিরও বেশি দেশের উচ্চ-প্রযুক্তি সংস্থাগুলির তথ্য এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চুরি করেছিল। তবে তারা কেউই মার্কিন মুলুকে নেই, এবং মার্কিন ফেডারেল কর্তারা স্বীকার করে নিয়েছেন, মার্কিন আদালতে তাদের হাজির করা সম্ভব নয়।

করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা জোর ধাক্কা খেয়েছে। মহামারীর সামলাতে হিমশিম খেয়ে তিনি এর জন্য বারবার দোষ দিয়েছেন চিনকে। সেইসঙ্গে বেজিং-এর বিরুদ্ধে হ্যাকারদের মাধ্যমে বৌদ্ধিক সম্পত্তি চুরি করার অভিযোগও এনেছিলেন ট্রাম্প। এদিনের বিচার বিভাগের রায়, আসলে সেই সূত্র ধরেই চিনের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের আরও এক আক্রমণ বলেই মনে করা হচ্ছে।