অনলাইনে ক্লাস করলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের যে নতুন নিয়মের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের সরকার করেছিল তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে ১৭টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট  অব কলাম্বিয়া। আর এই চাপে পড়েই অবশেষে আমেরিকার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা বিদেশি  শিক্ষার্থীদের ভিসা সংক্রান্ত নতুন সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দূর হলো।

ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিভাগ  আগের সিদ্ধান্ত ঘোষণার ঠিক এক সপ্তাহ পর ট্রাম্প সরকার এই ইউ-টার্ন নিতে বাধ্য হল। এর আগে গত ৬ জুলাই ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) জানিয়েছিল, আসন্ন ফল সেমিস্টার থেকে আমেরিকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি পুরোপুরি অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করে, তাহলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। 

আরও পড়ুন: মার্কিন-ভারত সখ্যতাই বাড়িয়ে দিল দূরত্ব, দিল্লির এককালের বন্ধু ইরান এখন বিক্ষুব্ধ

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৮ জুলাই ফেডারেল কোর্টে মামলা করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)। হার্ভার্ড এমআইটির এই পদক্ষেপের সমর্থন করে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও আদালতে ওই মামলায় যোগ দেয়। এছাড়া এই সিদ্ধান্তের স্থগিতাদেশ চেয়ে ওই মামলায় যোগ দেয় টেক কোম্পানিগুলোও। ইউএস চেম্বার অব কমার্স ও অন্য আইটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ জানায়, এই সিদ্ধান্ত তাদের নিয়োগের পরিকল্পনা ব্যাহত করবে, বোর্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এর মধ্য  বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসার নতুন নিয়ম আটকে দেওয়া এবং তা কার্যকর হওয়া ঠেকানোর চেষ্টায় নামে অঙ্গরাজ্যগুলোও। মঙ্গলবার প্রশাসনের নির্দেশ বাস্তবায়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয় ক্যালিফোর্নিয়া সহ ১৭টি অঙ্গরাজ্য ও ডিসট্রিক্ট অব কলম্বিয়া। দৃশ্যত এই চাপের মুখে এবার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসল ট্রাম্প প্রশাসন।

আরও পড়ুন: আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা, অগস্টেই বাজারে আসছে রাশিয়ার তৈরি করোনার ভ্যাকসিন

আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থার দেওা  তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী গেছেন ১১ লাখ, যা ওই বছর দেশটির মোট শিক্ষার্থীর সাড়ে ৫ শতাংশ।
২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মার্কিন অর্থনীতিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এসেছে চার হাজার ৪০০ কোটি ডলার। দেশের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বিদেশি এই  শিক্ষার্থীদের খরচও অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মার্কিন জিডিপিতেও যথেষ্ট অবদান রাখেন। আন্তর্জাতিক ছাত্ররা মার্কিন ব্যবসা-বাণিজ্যের কর্মীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।  অনলাইন ক্লাস হলে ভিনদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তে সমস্যার র মুখে পড়ত সেই অর্থসংস্থানের বিষয়টিও।