১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে ট্রাম্প তার ডান হাতটি তাঁর মাথার কাছে চেপে ধরেছেন। জতারপর আরও দুই ব্যক্তি এসে তাকে জাপটে ধরে মঞ্চ থেকে বের করে দেন। পিছনে নীল কাপড়ের উপর এবং সামনের পোডিয়ামেোও লেখা 'ট্রাম্প-পেন্স'।

ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প মঞ্চেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছেন। তাঁকে সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে করোনভাইরাসের চিকিৎসা করা হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিচ্ছেন। মার্কিন মুলুকে এই নিয়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি।

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে বিপরীত তথ্যানুসন্ধান করে দেখা গিয়েছে, ভিডিওটির সঙ্গে আর যাইহোক, করোনভাইরাস-এর কোনও সম্পর্ক নেই। বিপরীত তথ্যানুসন্ধান বলছে, ভিডিওটি তিন বছরের পুরনো, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের। ট্রাম্প নেভাডা প্রদেশে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন। সেইখানে এক বন্দুকধারী উপস্থিতির গুজব ছড়িয়েছিল। তাই ট্রাম্পকে নিরাপত্তার খাতিরে মঞ্চ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে সেইরকম কোনও বন্দুকধারীকে না পাওয়ায় তিনি ফের মঞ্চে ফিরে এসেছিলেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন।

আরেকটি ভিডিও প্রথম সারির মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের একটি প্রতিবেদন বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে হোয়াইট হাউসের মেডিক্যাল টিম নিশ্চিত ভাবে জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। নিচের স্ক্রোলের লেখাতেও একই দাবি করা হচ্ছে।

এই ক্ষেত্রেও বিপরীত তথ্যানুসন্ধান চালিয়েছে এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। তাতে দেখা যাচ্ছে, এই ভিডিওটিতে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনকে ডিজিটালি বিকৃত করা হয়েছে। ফক্স নিউজের যে ক্লিপটি ব্যবহার করা হয়েছে, তা ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভ্যালে-র আক্রান্ত হওয়ার খবর। তার উপরই কারিকুরি করে অডিও ও ভিডিও দুটিকেই বদলে দেওয়া হয়েছে। 

উল্লেখ্য গত মার্চে ডোনাল্ড ট্রাম্প কোভিড-১৯ পরীক্ষা করেয়েছিলেন, ফল এসেছিল নেতিবাচক। পরে অবশ্য তাঁর প্রেস সেক্রেটারি সহ হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মচারিই আক্রান্ত হয়েছেন। একদিন আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন গত কয়েকদিন ধরেই তিনি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খেয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই স্বীকারোক্তি এই ভুয়ো খবরগুলির পালে আরও বাতাস দিয়েছে।