প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিল ইতালিকে। তবে দেশটির পরিস্থিতি আগের থেকে তুলনামূলক ভাবে এখন কিছুটা ভাল। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে মৃত্যু নেমে গিয়েছে একশোর কমে। যা দু'মাস ব্যাপী চলা লকডাউনের মধ্যে সবচেয়ে কম। এই অবস্থায় কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে ফেলল ইতালি সরকার। দেশের প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তে সোমবার থেকে ৮০ শতাংস লকডাউন শিথিল করে দিয়েছেন। 

করোনার প্রকোপে ৬৭দিন টানা লকডাউন তলার পর সোমবার ইতালির রাজপথে মানুষের সরব উপস্থিতি আবার প্রাণের স্পন্দন ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। সোমবার থেকেই খুলে দেওয়া হয়েছে দোটান-পাট। খুলেছে রেস্তোরাঁ-ক্যাফেটেরিয়া। করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করতে ইতালি। 

তবে সোমবার থেকে দেশে লকডাউন উঠলেও আগামী ৩ জুন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে ইতালিতে পর্যটকরা প্রবেশ করতে পারবেন। প্রবেশের পর বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না  তাঁদের। ফলে চলতি গ্রীষ্মে মন্দা কাটিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা আশার আলো দেখছেন।

আগামী ২৫ মে ইতালিতে শরীরচর্চা কেন্দ্র , সুইমিং পুল ও খেলাধুলার কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি  ১৫ জুন থেকে থিয়েটার ও সিনেমা হলগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।

ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপে সফল মার্কিন ওষুধ সংস্থা 'মডার্না', আমেরিকায় কমতে শুরু করেছে মৃত্যু হার

বারণ করছেন দেশের বিশেষজ্ঞরা, বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন খেয়েই চলেছেন ট্রাম্প

মিলে গিয়েছে কার্যকর ওষুধ, করোনায় দিশেহারা পৃথিবীকে আশ্বস্ত করছে বাংলাদেশ

 

গত সপ্তাহেই মধ্য ইউরোপের ছোট্ট দেশ স্লোভেনিয়া করোনাভাইরাসের ফলে তৈরি হওয়া মহামারী পরিস্থিতির ইতি ঘোষণা করেছে। এবার ইতালিও দেশে লকডাউন প্রায় পুরোটাই উঠিয়ে দিল।  খুলে দেওয়া হয়েছে পাইকারি, খুচরাসহ সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিশেষকরে ‘লকডাউন’ ঘোষণার ৬৭ দিন পর খুললো খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। একইসময় পর খুলেছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সোমবার থেকে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে  খেলার পার্কগুলোতে। গণপরিবহনে ফিরে এসেছে স্বাভাবিক অবস্থা। যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ানো হয়েছে পরিবহনের সংখ্যা। ইতালি যেন আগের অবস্থায় ফিরেছে দু’মাসেরও বেশি সময় পর।

মারণ করোনাভাইরাস ইতালিতে এখনও পর্যন্ত প্রাণ কেড়েছে ৩২ হাজারেরও বেশি মানুষের। তবে মারণ ভাইরাসকে জয় করে সুস্থ হয়েছেন ১ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি ইতালিবাসী। দেশটিতে বর্তমানে সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার। এই অবস্থায় ঝুঁকি নিয়েই যে  তিনি লকডাউন শিথিল করছেন তা স্বীকার করে নিয়েছে ডোসেপ্পে কন্তে। সংক্রমণ যে ফের মাথাচাড়া দিতে পারে, তা মেনে নিয়েছেন কন্তে। তার পরেও ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। কারণ, কন্তের কথায়, 'আমাদের সব মেনে নিয়েই এগোতে হবে। নয়তো আর কখনোই নতুন করে শুরু করতে পারব না।’ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার উপায় নেই। তা হলে দেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিকে ক্ষেত্রে বড় ভাঙন দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, টিকা আবিষ্কারের জন্য বসে থাকার মতো ক্ষমতা ইতালির আর নেই।