ভারী বৃষ্টির জেরে কার্যত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। বেসমেন্ট চুয়ে জল জমেছে হোয়াইট হাউসের অফিসে। সেখানে জলমগ্ন হয়েছে অফিস ডেস্ক, চেয়ার-টেবিল প্রভৃতি। তবে শুধু ওয়াশিংটনেই নয়,উত্তর পশ্চিম ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনেও প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে কার্যত চেহারাটা ছিল একইরকম। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুসারে, এই মুহূর্তে সেখানে কার্যত জারি করা হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। 

একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে আচমকাই ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয় ওয়াশিংটন-সহ সংলগ্ন শহরগুলিতে। জাতীয় আবহাওয়া সূত্রে খবর, ভারী বর্ষণের ফলে জলের স্তর তিন থেকে চার ইঞ্চি পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম সূত্রে খবর, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের জেরে, ওয়াসিংটনের বিভিন্ন মেট্রো রেলের লাইনেও জল জমেছে, যার জেরে ব্যহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।  ওয়াশিংটন স্মৃতিস্তম্ভের সামনের রাস্তাটিও কার্যত জলমগ্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যার জেরে ব্যহত হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবনও। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, জলের পরিমাণ গাড়ির জানলা ছুঁয়ে যাওয়ায় কিছু মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন গাড়ির মাথায়। আবহাওয়া দফতর সূত্রে, গাড়ি চালিয়ে সড়কপথ দিয়ে যাওয়া র ওপর নিষেজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকী এও বলা হয়েছে যে, অপেক্ষাকৃত নীচু এলাকায় যাঁরা বসবাস করেন তাঁরা যেন উঁচু এলাকায় এসে আশ্রয় নেন। 

মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে হোয়াইট হাউসের বেসমেন্টে জমে গেল জল

অন্যান্যবারের বৃষ্টির তুলনায় আজকের বৃষ্টিতে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন মুলুকের জনজীবন। ভারী বৃষ্টির জেরে  একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে খবর। যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সেখানকার রিগান জাতীয় বিমানবন্দরে  বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৮.৪ সেন্টিমিটার। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এই পরিমাণ বৃষ্টিপাত এবার রেকর্ড করেছে। কারণ বলা হচ্ছে এর আগে ১৯৫৮ সালে বৃষ্টি হয়েছিল ৫.৬ সেন্টিমিটার। সেদেশের জাতীয় আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে যে, আগামী কয়েকদিনে  আরও প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।