সামনে নভেম্বরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আর নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই যেন সমস্যায় সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তাঁর এবং তাঁর প্রশাসনের আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হল। বাগদাদে শীর্ষস্থানীয় ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ড্রোন হামলায় হত্যা করা  দায়ে ট্রাম্প ও তাঁর সহকারিদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির জন্য ইন্টারপোল-এর সহায়তাও চেয়েছে ইরান সরকার।

তেহরানে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলি আলকাসিমির বলেছেন, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বাগদাদে জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করার ঘটনায় জড়িত থাকার কারণেই ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আরও ৩০ জনেরও বেশি মার্কিন প্রশাসনিক কর্তা ও সেনা কর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে 'হত্যা ও সন্ত্রাসবাদ'-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ইরান সরকার এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প ছাড়া আর কোনও অপরাধীর নাম জানায়নি। তবে তারা জানিয়েছে ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতিত্ব শেষ হওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে এই মামলা চালিয়ে যাওয়া হবে।

শুধু গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেই থেমে থাকেনি তেহরান। ট্রাম্প এবং অন্যান্য অপরাধীদের জন্য 'রেড নোটিশ' জারি করার অনুরোধ জানিয়েছে ইন্টারপোল-এ। এই 'রেড নোটিশ' জারির অর্থ সর্বোচ্চ স্তরের গ্রেফতারির আবেদন। ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করলে সাধারণত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অনুরোধকারী দেশের পক্ষে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তবে গ্রেফতার বা প্রত্যর্পণ করতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এই নোটিশে রাষ্ট্রনেতাদের ভ্রমণে সীমাবদ্ধতা আসতে পারে।

এই বিষয়ে এখনও ফ্রান্সের লিয়ঁ-তে অবস্থিত ইন্টারপোলের সদর দপ্তর থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে ট্রাম্পের গ্রেফতারের হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই বললেই চলে। গেফতারির ভয় না থাকলেও এই অভিযোগের ফলে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলা তীব্র উত্তেজনার আঁচ ফের উসকে উঠল। নির্বাচনের ঠিক আগে ইরান পরিস্থিতি সামলানোর ব্যর্থতার অভিযোগ জোরালো হয়ে উঠতে পারে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। একতরফাভাবে তেহরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসেছিল আমেরিকা। আর তার থেকেই এই দুই রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব চলছে।