রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়তে চলেছে এই বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। মঙ্গলবার মার্কিন নির্বাচনের চূড়ান্ত দিনের আগেই ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটিরও বেশি মার্কিন নাগরিক তাঁদের ভটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছে এক মার্কিন পর্যবেক্ষক সংস্থা। কোভিড-১৯ মহামারির তৃতীয় তরঙ্গের মধ্যে যা রেকর্ড বলে দাবি করা হচ্ছে।

মার্কিন নির্বাচনে যে শুধুমাত্র ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে এসেই ভোট দেওয়া যায়, তা নয়। ভোটের দিনের আগেই ইমেলে কিংবা ব্যালট গ্রহণকারী ড্রপ বক্সে নিজেদের মতদান করার সুযোগ পান মার্কিনীরা। যাকে বলা হয় 'আর্লি ভোট'। মঙ্গলবার সকালে দেখা গিয়েছে মার্কিন নির্বাচন দিবসের আগেই ১০২ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন নাগরিক তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

২০১৬ সালে মোট ১৩ কোটি ৬৫ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে মোট যত ভোট পড়েছিল তার ৭৩ শতাংশই এবার ভোটের দিনের আগেই পড়ে গিয়েছে। গত বছর আর্লি ভোটের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪ কোটি ৫০ লক্ষের মতো। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে থাকা টেক্সাস এবং অ্যারিজোনা প্রদেশ-সহ আমেরিকার বেশ কয়েকটি প্রদেশে চার বছর আগে মোট যা ভোট পড়েছিল, শুধু 'আর্লি ভোট'-এই সেই সংখ্যা অতিক্রম করে গিয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে ড্রপ বক্সে ব্য়ালট ফেলে হোক, কিংবা মেল-ইন বা অনুপস্থিত ব্যালটের মাধ্যমে - যেভাবেই হোক না কেন কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন 'আর্লি ভোট'ই নিরাপত্তা এবং সুবিধার দিক থেকে ভোটারদের মধ্যে জবপ্রিয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রবণতায় সবচেয়ে বেশি লাভ হয়েছে কেন্টাকি প্রদেশে। ২০১৬ সালে এই প্রদেশে যতগুলি আর্লি ভোট পড়েছিল, তার প্রায় ১৩ গুণ বেশি আর্লি ভোট পড়েছে এই বছরে।

সব মিলিয়ে এইবারের ভোটে ভোটদানের পরিমাণে নতুন রেকর্ড তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক কালের মধ্যে ভোটদানের শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছিল ২০০৮ সালে বারাক ওবামার প্রথম নির্বাচনের সময়, ৬১.৬ শতাংশ। ২০১৬-তে ছিল ৬০.১ শতাংশ। এইবার সব মিলিয়ে ১৫ কোটি মানুষ মার্কিন নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে ভোটদানের শতকরা হিসাব দাঁড়াবে ৬২ শতাংশের বেশি।