বাংলাদেশের ১৩তম সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে। দলের নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ সদস্যের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করেছে। এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের ১৩তম সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে। দলের নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ সদস্যের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করেছে। এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। তাঁরা সবাই বিএনপি–মনোনীত প্রার্থী। এবারে বাংলাদেশের নির্বাচনে ৭৯ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী ভোটে লড়েছিলেন। এর মধ্যে বিএনপি ৬ জন সংখ্যালঘুকে টিকিট দিয়েছিল। সব চেয়ে বেশি হিন্দু প্রার্থী দিয়েছিল বাম দলগুলি। উল্লেখযোগ্য ভাবে বাংলাদেশ জামাত ইসলামিও একটি আসনে হিন্দু প্রার্থী দিয়েছিল। ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২২টি দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ৬৭ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এর বাইরে নির্দল প্রার্থী হিসেবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ১২ জন প্রার্থী নির্বাচনে লড়েন।
২৯৯টি সংসদীয় আসনে গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুসারে, ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তার মিত্ররা ২১২টি আসন পেয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট ৭৭টি আসন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসন জিতেছে।
সংখ্য়াললঘু কারা কারা জিতলেন?
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা–৩ আসন থেকে জয় পেয়েছেন বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা। কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা–৩ আসন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামাত ইসলামির প্রার্থী মুহাম্মদ শাহীনুর ইসলাম পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট।
মাগুরা-২ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির নেতা নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বেয়াই। নিতাই রায় চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৬টি। বান্দরবান থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন সাচিং প্রু। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ মো.সূজা উদ্দীন। তিনি পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট।
রাঙামাটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন দীপেন দেওয়ান। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা। তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩১ হাজার ২২২ ভোট।
কারা হারলেন?
বিএনপি এবার ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ছয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজন হেরেছেন। তাঁরা হলেন বাগেরহাট–১ আসনের কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও বাগেরহাট–৪ আসনের সোমনাথ দে। এবারের নির্বাচনে জামাতে ইসলামি ও এনসিপি একজন করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী দিয়েছিল। তাঁরা দুজনই পরাজিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন খুলনা–১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এবং মৌলভীবাজার–৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী প্রীতম দাশ।


