মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো গ্রহাণু বা অন্য কোনও মহাজাগতিক বস্তু পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়লে সমস্ত সভ্যতাই ধ্বংস হতে পারে। তাই এই বিপদ আটকাতে 'কাইনেটিক ইম্পেক্টর' প্রযুক্তি কাজে লাগাতে চাইছে নাসা। মোদ্দা কথায় পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে পারে এমন মহাজাগতিক বস্তুদের উচ্চ-গতির মহাকাশ যান দিয়ে ধাক্কা মেরে অন্যদিকে চালিত করা। আর এই কাজের জন্যই এলন মাস্কের স্পেসএক্স সংস্থার সঙ্গে ৬৯ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করল তারা।

এখনও অবধি কাইনেটিক ইমপ্যাক্ট প্রযুক্তি তত্ত্বের পর্যায়ে রয়েছে। ছোট মাপের গ্রহাণু বা মহাজাগতিক পাথরের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি সফল হতে পারে তা ২০০৫ সালে মনাসার 'ডিপ ইমপ্যাক্ট মিশন'-এই প্রমাণিত। তবে খুব বেশি পরীক্ষালব্ধ ফলাফল না থাকায় বড় মাপের গ্রহাণুর ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি কতটা সফল হবে তা এখনও জানা নেই।

শুধু তাই নয় মার্কিন ন্য়াশনাল অ্য়াকাডেমি অব সায়েন্সের বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী এই প্রযুক্তির ব্যবহারে ছোট আকারের গ্রহাণুদের ক্ষেত্রে, পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা থেকে বিচ্যুত করতে অন্তত এক থেকে দুই বছরের সতর্কতার সময় লাগবে। তবেই এই প্রযুক্তি সফল হবে। আর বড় মাপের গ্রহাণুদের ক্ষেত্রে, যেগুলির ব্যাস কয়েকশো কিলোমিটারের, সতর্কতার সময়কাল বেড়ে ২০ বছর, কখনও কখনও কয়েক দশক হতে পারে।

এই সময়কালটা কমিয়ে আনাও নাসা ও স্পেসএক্স-এর এই যৌথ অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হতে চলেছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ডাবল অ্যাস্ট্রয়েড রিডিরেকশন টেস্ট বা ডার্ট। বড় গ্রহাণুদের উচ্চ গতির মহাকাশযানের ধাক্কায় পৃথিবীর দিক থেকে সরিয়ে দেওয়া যাবে কি না, বিষয়টি ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২২ সালের অক্টোবর মাসে দিদিমোস গ্রহাণুর উপগ্রহ পৃথিবী থেকে মাত্র ১১ মিলিয়ান কিলোমিটার দূরে থাকবে। সেই সময়ই ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেলবার্গে অবস্থিত স্পেসএক্স-এর স্পেস লঞ্চ কমপ্লেক্স ফোর ই থেকে একটি ফ্যালকন ৯ রকেট দিদিমোসের উপগ্রহকে লক্ষ্য করে উৎক্ষেপন করা হবে।