ভারতের জন্য দারুণ গর্বের মুহূর্ত। মার্কিন মহাকাশ চর্চা কেন্দ্র নাসা, তাদের ওয়াল্পস ফ্লাইট পরিষেবা থেকে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশ্যে একটি নর্থরোপ গ্রুম্যান সিগনাস মহাকাশযান লঞ্চ করল। মহাকাশযানটির নাম রাখা হয়েছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রাক্তন নভোশ্চর কল্পনা চাওলার নামে। এটি মূলত একটি মালবাহী মহাকাশযান, অর্থাৎ পৃথিবী থেকে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে বসবাসকারী মহাকাশচারীদের ব্যবহারের জন্য ও  অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য বহন করে নিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার রাতে এই মহাকাশযানটি আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তবে, এটির লঞ্চে কিছুটা দেরি হয়। নাসার পক্ষ থেকে এই বিলম্বের কারণগুলি স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবে সূত্রের খবর প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই এটির লঞ্চে দীর্ঘ সময় লেগেছে। এস এস কল্পনা চাওলা নামের এই মহাকাশযানটি এনজি-১৪ মিশন স্টেশনে প্রায় ৩,৬৩০ কিলোগ্রাম পণ্য বয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে নাসা।

কল্পনা চাওলার নামে নামাঙ্কিত মহাকাশযানের লঞ্চের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার স্বামী জিন হ্যারিসন। তিনি বলেন, তাঁর নামে কোনও রকেটের নামকরণ করা হয়েছে জানতে পারলে কল্পনা খুবই খুশি হতেন। এর আগে এক সাক্ষাত্কারে হ্যারিসন জানিয়েছিলেন সাফল্যের জন্য ভারতীয়রা পুরো বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম। কল্পনা যা করেছেন তা শুধু তাঁর সহকর্মীদেরাই নয়, বহু ভারতীয়কেও অনুপ্রাণিত করেছে।

কয়েকদিন আগেই অবশ্য কল্পনা চাওলার নামে নর্থরোপ গ্রুমম্যান সিগন্যাস মহাকাশযানটির নামকরণের কথা ঘোষণা করেছিল নাসা। তারা বলেছিল নর্থরোপ গ্রুমম্যান এনজি-১৪ সিগনাস মহাকাশযানটির নাম প্রাক্তন নভোশ্চর কল্পনা চাওলার নামে রেখে তারা গর্বিত। প্রতিটি সিগনাস রকেটের নাম মহাকাশ অভিযানে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে এমন কোনও ব্যক্তির নামে রাখাটাই তাদের ঐতিহ্য বলে জানানো হয়। কল্পনা চাওলা মহাকাশে যাওয়ার প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলা। এই ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্যই এই ক্ষেত্রে তাঁকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

১৯৯৭ লসালে প্রথমবার মহাকাশ অভিযানে গিয়েছিলেন কল্পনা চাওলা। তারপর, ২০০৩ সালে দ্বিতীয়বার অভিযানে যান তিনি। কিন্তু পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় মহাকাশযানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার পরই বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণে আগুন ধরে যায় যানটিতে। কল্পনা-সহ ৭ মহাকাশচারীরই মৃত্যু হয়েছিল।