গণনার একেবারে শুরু থেকেই প্রায় এগিয়ে গিয়েছিলেন জো বাইডেন। যা দেখে আশাবাদী বাইডেন সমর্থকরা নেমে এসেছিলেন রাস্তায়, জয় উদযাপন করতে। তবে পরাজিত হলেও ট্রাম্প যে নানা বাহানায় ক্ষমতা ধরে রাখার অপ্রাণ চেষ্টা করবেন তার একটা আগাম আশঙ্কা তাঁরা করেছিলেন। কার্যক্ষেত্রে সেই আশঙ্কাই সত্যি করে দেখালেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি। ফল প্রকাশের আগেই আগাম তাঁর জয় ঘোষণা করে দিলেন। আর ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপি করার অভিযোগ আনলেন। হুমকি দিলেন সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ারও।

শুরুটা হয়েছিল টুইট দিয়ে। নির্বাচন যখন চলছে তখনই আসে তাঁর প্রথম টুইট, জানিয়েছিলেন গোটা দেশেই তাঁদের অবস্থা খুব ভালো। তার কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, বুধবার রাতে তিনি বিরাট জয়ের ঘোষণা করবেন। এরপরই প্রথমবার ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ করেন তিনি। টুইট করে দাবি করেন, তাঁরা অনেক এগিয়ে আছেন। তবে ডেমোক্র্যাটরা 'ভোট চুরি' করার চেষ্টা করছে। তাঁরা কখনই এটা করতে দেবেন না, বলে ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

যদিও টুইটার সংস্থার পক্ষ থেকে টুইটটি গোপন করে দেওয়া হয়। বলা হয়, ওই টুইটের বিষয়বস্তুর কিছু অংশ অথবা পুরোটাই  বিতর্কিত এবং তা নির্বাচন সম্পর্কে ভুল পথে চালিত করতে পারে। তাই ওই তথ্য গোপন করে দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প অবশ্য এতে দমে যাননি। এর পরপরই তিনি হোয়াইট হাউজ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন। বলেন, তাঁকে ভোট দিয়েছিল যে কয়েক কোটি সমর্থক, তাদেরকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে 'অত্যন্ত দুখী একটি গোষ্ঠী'। এই ভোট জালিয়াতি দেশের মানুষের সঙ্গে জালিয়াতি করার সামিল বলে তিনি জানান, এই জালিয়াতি রুখতে রিপাবলিকানরা সুপ্রিম কোর্টে যাবে। তাঁর অভিযোগ ভোটগ্রহণ বন্ধ হওয়ার পরও ব্যালট খুঁজে খুঁজে এনে ভোট বাড়াচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। অবশ্য এই অভিযোগের সপক্ষে কোনও প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।

অবশ্য, প্রমাণ-যুক্তির কবে ধার ধেরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তাঁর সমর্থকরা? তাঁদের মূল বক্তব্য হল বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। কাজেই, প্রেসিডেন্ট নিজে ভোটচুরির অভিযোগ করলে, তাঁর সমর্থকরা মার্কিন মুলুকে ধুন্ধুমার বাধাতে পারে বলে আশঙ্কায় রয়েছে প্রশাসন।

তবে এই ধরণের অবস্থা হতে পারে বলে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ডেমোক্র্যাট সমর্থকরা। প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে ট্রাম্প শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দেননি। সেই সময় থেকেই ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা করছিলেন ভোটে পরাজয়ের সম্ভাবনা দেখলেই ভোটে কারচুপির অভিযোগ করবেন ট্রাম্প। আগে থেকে নিজের জয়ের ঘোষণাও করে দেবেন। তারপর আদালতে নিজের ঘনিষ্ঠ বিচারপতিদের দিয়ে বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি করে তুলবেন। কার্যক্ষেত্রে মার্কিন নির্বাচন, সেই দিকেই এগোচ্ছে।