তিনি ভেদাভেদ চান না, চান ঐক্যবদ্ধ আমেরিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর জাতির উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণেই তাঁর প্রশাসনের মূল সুরটা বেঁধে দিলেন জো বাইডেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন 'লাল এবং নীল' রঙের ভিত্তিতে তিনি আমেরিকাকে দেখবেন না। অর্থাৎ কারা রিপাবলিকান, কারা ডেমোক্র্যাট তা তাঁর কাছে বড় বিষয় নয়, বড় বিষয় হল সকলেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

প্রচার পর্ব থেকে বাইডেন-হ্যারিস জুটি বলেছিলেন এই বছরের মার্কিন নির্বাচন শুধু প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার ভোট নয়, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আত্মা ফিরিয়ে আনার লড়াই'। জয়ের পরও বাইডেন বলেছেন ওভাল অফিসের দখল তিনি চেয়েছিলেন মার্কিন আত্মাকে ফেরানোর জন্যই। ট্রাম্প বরাবর স্লোগান দিয়েছেন তিনি 'আমেকরিকাকে ফের শ্রেষ্ঠ বানাতে চান'। অন্যদিকে বাইডেন বলেছেন, তিনি 'আমেরিকাকে আবারও বিশ্বজুড়ে সম্মানের আসন ফিরিয়ে দিতে এবং দেশের মাটিতে মার্কিন জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান'।

বিজয় ভাষণে জো বাইডেন আরও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হিসাবে তাঁর প্রথম কাজটিই হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস মহামারির মোকাবিলা। এই জন্য সোমবারই তিনি একটি করোনাভাইরাস টাস্কফোর্স গঠন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কারণ তাঁর মতে, করোনাভাইরাস-কে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অর্থনীতিকে মেরামত করা যাবে না। দেশবাসীর প্রাণশক্তি ফেরানো যাবে না। নাতি-নাতনিদের জড়িয়ে ধরা, জন্মদিন, বিবাহ, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ-এর মতো জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলি উপভোগ করা যাবে না।

তিনদিন ধরে গণনা চলার পর ভোটে পরাজয় স্পষ্ট হয়ে গেলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সমর্থকরা এখনও পরাজয় মেনে নেননি। হোয়াইট হাউস থেকে একদিকে ট্রাম্প তাঁর জয়ের দাবি করে যাচ্ছেন, বাইডেনের জয় ভুয়ো বলে দাবি করছেন, জালিয়াতি করে ডেমোক্র্যাট জিতেছে বলে দাবি করছেন। অন্যদিকে আমেরিকার রাজপথে দাপিয়ে বেরাচ্ছেন ট্রাম্প সমর্থকরা। ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে অ্যাসল্ট রাইফেল হাতে রাস্তায় ঘুরছেন তাঁরা। তাঁদেরকেও বার্তা দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট বাইডেন। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যাঁরা ভোট দিয়েছিলেন তাঁদের হতাশা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু, তিনি 'কঠোর বাকবিতণ্ডা' সরিয়ে দেওয়ার, 'উত্তাপ কমিয়ে' একে অপরের কথা শোনার আবেদন করেছেন।