জীবন যুদ্ধে হার না মানার গল্পের সঠিক উদাহরণ হলেন  এই মুহূর্তে জোসেফ রবিনেট বাইডেন ওরফে জো বাইডেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যিনি ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হয়ে লড়েছেন, রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। ঐতিহাসিক জয় লাভ করলেন জো বাইডেন। তবে এই জয়ের পিছনে আছে শুধুই জীবন যুদ্ধ। ব্যাথা পেয়েও না থামার গল্প। 

 


 ক্রিসমাস ট্রি কিনতে গিয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিলিয়া মারা যান স্ত্রী-মেয়ে

জো বাইডেনের জন্ম ১৯৪২ সালের ২০ নভেম্বর পেনসিলভিয়া অঙ্গরাজ্যের স্ট্রনটনে। ৪ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় হলেন বাইডেন। বাবা জোসেফ রবিনেট বাইডেন সিনিয়র আর আইরিশ বংশোভূত মা ক্যাথরিন ইউজেনিয়া ফিনেগান। ডেলাওয়ার ইউনিভার্সিটিতে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন বাইডেন। পরে তিনি আইনে ডিগ্রি নেন। ১৯৬৬ সালে সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটিতে পড়তে পড়তেই নিলিয়া হান্টারকে বিয়ে করেন বাইডেন। তাঁদের ৩ সন্তান হয়। কিন্তু এরপরেই জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খান বাইডেন। ১৯৭২ সালের বড় দিনের আগে ক্রিসমাস ট্রি কিনতে গিয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিলিয়া মারা যান। এবং তাঁর মেয়ে নাওমিও দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপরে বহু ঝড়ের রাত পেরিয়ে জীবন যুদ্ধে জয়ী জো বাইডেন।

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়েসী পঞ্চম সিনেটর তিনিই

জো বাইডেনের স্বপ্ন ছিল সেনেটর হওয়ার। সেনেটর হওয়ার পরের লক্ষেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া। তিনি তাঁর লক্ষ ভ্রষ্ট কোনও দিনও হননি। দারুন কঠিন পথেও ভেঙে পড়েও থেমে যাননি। নিলিয়াকে হারানোর এক বছরের মাথায় ১৯৭৩ সালে বাইডেন জিল ট্রেসি জ্যাকবকে বিয়ে করেন। তাঁদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। ১৯৭০ সালে ডেলাওয়ারের নিউ ক্যাসল কাউন্টির কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হন জো বাইডেন। ৩০ বছর বয়েসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হওয়ার স্বপ্নপূরণ হয় বাইডেনের। তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী পঞ্চম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন।