কারাবন্দি হওয়ার সাজা জুটত তার। আর সেই সাজা এড়াতেই নিজের মৃত্যুর ভুয়ো গল্প ছড়িয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। চিত্রনাট্য অনুযায়ী অভিযুক্তের আইনজাবী আদালতে দায়ের করেছিলেন মৃত্যু ভুয়ো সংশাপত্র। কিন্তু সেখানেই ঘটেগেল বিপত্তি। আর সাজার হাত থেকেও রেহাই মিলল না। 

নিউইয়র্কের হ্যান্টংটনের বাসিন্দা ২৫ বছরের রর্বাট বার্গার যুক্ত ছিলেন বেশ কয়েকটি কেলেঙ্কারিতে। যারমধ্যে একটি হল বিলাসবহুল লেক্সাস গাড়ি চুরি আর অন্যটি একটি ট্রাক হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী এই মামলাগুলিতে রর্বাটের মাত্র এক বছর কারাদণ্ড হওয়ার কথাই ছিল।  গতবছরের এই ঘটনা। রর্বাটের আইনজীবী বিচারকের কাছে প্রামাণ করতে চেয়েছিলেন তাঁর মক্কেল প্রয়াত হয়েছে। আর সেই কারণের রর্বাটের মৃত্যুর সংশাপত্রও আদালতে দাখিল করেছিলেন। এই পর্যন্ত সবকিছুই ঠিক ছিল। 

আইনজীবীর দাখিল করা মৃত্যুর সংশাপত্রটি প্রথম দর্শনে নিউ জার্সি স্বাস্থ্য, গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও রেজিস্ট্রি বিভাগ দ্বারা প্রকাশিত একটি অফিসিয়াল ডকুমেন্টের মতই মনে হয়েছিল।কিন্তু সেখানে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল একটি এস।ইংরাজি  'রেজিস্ট্রি' বানাম 'আই ই জি আই এস টি আর ওয়াই' লেখা হয়। কিন্তু সংশাপত্রে লেখা ছিল 'আই ই জি এস আই টি আর ওয়াই'। ফন্ট্রের ধরন ও আকারে কিছুটা অসঙ্গতি থাকলে তা তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তারপরই চিঠিটি নিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। 

নিউ জার্সি স্বাস্থ্য, গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও রেডিস্ট্রি বিভাগের কাছেও পাঠান হয় সংশাপত্রটি। সবকিছু খতিয়ে দেখে তাঁরা জানিয়ে দেন সংশাপত্রটি ভুয়ো। 

 তবে রর্বাট বেঁচে ছিলেন। কিন্তু ভুয়ো মৃত্যুর গল্প ছড়িয়ে গাড়ির চুরির অভিযোগে জেল যাত্রা সাময়িক এড়াতে পারলেও জেলে তাকে যেতে হয়েছিল। মিথ্য পরিচয় দিয়ে আবারও বেআইনি পথেই হাঁটতে শুরু করেছিল ২৫ বছরের মার্কিন নাগরিক। একটি ক্যাথলিক কলেজে চুরির অভিযোগে ফিলাডেলফিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। পেনসিলভেনিয়া আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী জানুয়ারিতে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 


করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে জেলবন্দিদের মুক্তিদেওয়ার জন্য শুনানি চলছিল। সেই সময় বর্বাট বার্গারের মামলাটিও উত্থাপিত হয়। তাকে এক মার্কিন ডরারের বিনিময় জামিন দেওয়া হয়। কিন্তু তাও বন্দিদশা কাটেনি তার। কারণ  তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা চলছে। যে মামলার পরবর্তী শুনানি ২৯ জুলাই। আর মৃত্যুর ভুয়ো সংশাপত্র জাল করার যে মামলা তার বিরুদ্ধে হয়েছে তাতে দোষী সাব্যস্ত হলে কমপক্ষে চার বছর জেল হতে পারে।  তবে রর্বাটের যে আইনজীবী তার মৃত্যুর ভুয়ো সংশাপত্র আদালতে দাখিল করেছিলেন তিনি অবশ্য নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে জানিয়েছেন তাঁর সঙ্গে রর্বাটের কোনও সম্পর্ক নেই। তড়িঘড়ি করে তিনি রর্বাটের পরিচিতের  পাঠান মৃত্যুর ভুয়ো সংশাপত্র দাখিল করেছেন।