সোমবার দীর্ঘ প্রায় আট  সপ্তাহ পরে প্রথমবার পূর্ব লাদাখের ভারত-চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার আপত্তিকর অবস্থান থেকে চিন সেনা প্রত্যাহার করা শুরি করেছে। কিন্তু, বেজিং-কে বিশ্বাস নেই। এর আগেও তারা সেনা প্রত্যাহারের কথা বলেছিল, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে উল্টো পথেই হেঁটেছে। তবে ভারতের পক্ষে ভালো খবর হল, আর ইঙ্গিত নয়, একেবারে সরাসরি আমেরিকার পক্ষ থেকে চিন ইস্যুতে ভারতকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হল।

সোমবার প্রথমে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারত-চিন যুদ্ধ বাধলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বশক্তি দিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়াবে। হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ মার্ক মিডোজ বলেছেন , কোনও দেশকে এককভাবে সবচেয়ে প্রভাবশালী হবে, তা আমেরিকা কখনই হতে দেবে না। প্রসঙ্গত, মার্কিন নৌসেনা দক্ষিণ চিন সাগরে দুটি বিমান বাহক নৌবহর মোতায়েন করেছে। সেখানে সামরিক অনুশীলনও চালাচ্ছে তারা। এই প্রসঙ্গে মিডোজ জানিয়েছেন, চিন প্রায় পুরো দক্ষিণ চিন সাগরেই নিজেদের প্রতিপত্তি জাহির করে৷ ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স , মালয়শিয়া, ব্রুনেই, তাইওয়ান সকলেই তার ভুক্তভোগী। চিনের এই দাদাগিরি মেনে নেওয়া হবে না৷

মার্কিন এই অবস্থানে সিলমোহর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওই বিবৃতির পরই তিনি একটি টুইট করে বলেন, 'চিনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ গোটা বিশ্বেরই বড় ক্ষতি হয়েছে '৷ বরাবরই ট্রাম্প প্রশাসন করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার জন্য বেজিং-কে দায়ী করে থাকে। তাদের অভিযোগ, মহামারির সূচনা লগ্নে চিন তথ্য গোপন করেছিল। এই ভাইরাস-কে গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে দিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক টুইট সেই অবস্থানের সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ব্রাসেলস-এ এক সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন বিদদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানিয়েছিলেন ভারতের বিরুদ্ধে চিনের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের জজবাব দেওয়ার জন্য়ই ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে এশিয়ায় মোতায়েন করা হচ্ছে। এরপরই দক্ষিণ চিন সাগরে মার্কিন রণতরী বহাল করা হয়েছিল। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর পক্ষ থেকে সরাসরি ভারতকে সামরিক সহায়তার বার্তা দেওয়া হল।