মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে চিনা কনস্যুলেটে বসেই কি সারা বিশ্বে গুপ্তচরবৃত্তি করত চিনা কমিউনিস্ট পার্টি? হিউস্টনে চিনা কনস্যুলেট বন্ধ করার নির্দেশের পর এমনই গুরুতর অভিযোগ করলেন রিপাবলিকান দলের সেনেটর মার্কো রুবিও।

বুধবার প্রথমে চিনের বিদেশ মন্ত্রক থেকেই জানানো হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আচমকা হিউস্টনের চিনা কনস্যুলেট বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার নিন্দাও করেছিল চিনা বিদেশ মন্ত্রক। তার আগে ওই দূতাবাসে আগুন লাগার খবর পেয়ে হাজির হয়েছিল স্থানীয় পুলিশ ও দমকল। জানা যায় প্রচুর পরিমাণে নথিপত্র পোড়ানো হচ্ছে। এরপরই দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ আসলেও, ঠিক কী কারণে তা বন্ধ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর জানা যায়নি।

পরে ওয়াশিংটন জানায়, 'মার্কিন বৌদ্ধিক সম্পত্তি এবং ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করা'র জন্যই চিনা দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাইবার নজরদারি বা সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

এরপর ফ্লোরিডার সেনেটর, ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মার্কো রুবিও টুইট করে সরাসরি হিউস্টনের চিননা দূতাবাস-কে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া বলে অভিযোগ করলেন। তিনি বলেন, 'হিউস্টনে চিনা কনস্যুলেট কোনও কূটনৈতিক কেন্দ্র নয়। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিস্ট পার্টির গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রভাব খাটানোর বিশাল নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় কার্যালয়'।

ট্রাম্প প্রশাসন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়াতে তাঁর আশা, দূতাবাসের কূটনৈতিক সুবিধা নিয়ে লুকিয়ে থাকা গুপ্তচরদের, হয় ৭২ ঘন্টার মধ্যে আমেরিকার মাটি ছাড়তে হবে, অথবা গ্রেফতার হতে হবে।

চিনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে গুপ্তচরবৃত্তি ও তথ্য চুরি করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে আমেরিকা। টিকটক-এর মতো চিনা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ-এর মাধ্যমে গ্রাহকদের তথ্য চুরি করা, হুয়ায়েই সংস্থার বিভিন্ন যন্ত্রাদির মাধ্যমে অন্য দেশের সরকার ও নাগরিকদের উপর নজরদারি, অপরাধী হ্যাকারদের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থার গবেষণা তথ্য ও বানিজ্যিক কৌশল সংক্রান্ত তথ্য চুরি - গত কয়েকদিনে এমন মারাত্মক সব অভিযোগ বেজিং-এর বিরুদ্ধে করেছে ওয়াশিংটন। এবার মার্কিন শাসক দলের এক সেনেটর এই গুরুতর অভিযোগ করায়, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি হিউস্টনের দূতাবাস থেকে চিনা গুপ্তচরবৃত্তির সরাসরি কোনও প্রমাণ এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে?