বুধবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাফাল চুক্তি ফাঁস হওয়া নথি প্রকাশের অধিকার রয়েছে 'দ্য হিন্দু' পত্রিকার। 'পেন্টাগন পেপার্স'-এর প্রসঙ্গ টেনে শীর্ষ আদালত বলেছে, ওই মামলায় আইনের যে নীতি ছিল তা রাফাল মামলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নিউ ইয়র্ক টাইমস সংস্থার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ওই মামলায় মার্কিন শীর্ষ আদালত নিক্সন প্রশাসনকেই দোষী সাব্যস্ত করেছিল।

প্রায় একদশক ধরে চলা ভিয়েতনাম যুদ্ধ আমেরিকা যে জেতার মতো জায়গায় নেই তা মার্কিন সেনার কর্তাব্যক্তিরা ও নিক্সন প্রশাসন জানতেন। তা সত্ত্বেও মার্কিন জনগণকে যুদ্ধ জয়ের মিথ্যা আশা দিয়ে গিয়েছিল তারা। প্রাক্তন সরকারি সামরিক বিশ্লেষক আইজেনবার্গ এই সংক্রান্ত নথি ফটোকপি করে তুলে দিয়েছিলেন নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর হাতে। টাইমস-এ সেই মিথ্য়ার প্রমাণ বের হওয়া শুরু হতেই সরকারি আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ ভিয়েতনাম যুদ্ধ সংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।  

এই নথি যে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর হাতে এসেছে সেই ব্যাপারে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার প্রকাশক ক্যাথরিন গ্রাহামকে আগেই জানিয়েছিলেন মার্কিন সেক্রেটারি অব ডিফেন্স রবার্ট ম্য়াকনামারা। ওয়াশিংটন পোস্ট আইজেনবার্গকে খুঁজে বের করে। আইজেনবার্গ একই নথি পোস্ট-কে দেন। আদালত অবমাননার ঝুঁকি নিয়েও প্রকাশক ক্যাথরিন গ্রাহাম ও এক্সিকিউটিভ এডিটর বেন ব্র্যাডলি বাকি সব নথি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশ করে দেন।

এরপর আদালতে একসঙ্গে তাদের সংবাদ মাধ্যমের স্বাধিকারের আবেদন করেন। অ্যান্য সংবাদমাধ্য়মও তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছিল। আদালতে জুরিরা ৬-৩'এ বিভক্ত হয়ে গিয়ে সংবাদপত্রের পক্ষেই রায় দেয়।

বুধবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ও 'দ্য হিন্দু' তথা সমগ্র সংবাদমাধ্যমের বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেন্টাগন পেপার্স মামলায় শেষ পর্যন্ত মুখ পুড়েছিল নিক্সন প্রশাসনের, রাফাল মামলায় জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায় তাই এখন দেখার।