‘সেক্স মন্ত্রক’! এমনই এক অদ্ভুত প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত আর্মেনিয়ার সংসদ। পুরনো একটি মন্তব্যকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী দলের সাংসদদের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা। মুহূর্তের মধ্যে তা হাতাহাতিতে পরিণত হয়। সংসদের ভিতরে চলে লাথি-ঘুষি, ছোড়া হয় চেয়ারও। কিন্তু কী এই ‘সেক্স মন্ত্রক’?

‘সেক্স মন্ত্রক’! এমনই এক অদ্ভুত প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত আর্মেনিয়ার সংসদ। পুরনো একটি মন্তব্যকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী দলের সাংসদদের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা। মুহূর্তের মধ্যে তা হাতাহাতিতে পরিণত হয়। সংসদের ভিতরে চলে লাথি-ঘুষি, ছোড়া হয় চেয়ারও। কিন্তু কী এই ‘সেক্স মন্ত্রক’? সত্যিই কি এমন কোনও মন্ত্রক তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল আর্মেনিয়ার বিরোধী দল? ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য সাম্প্রতিক কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত থেকে নয়। কয়েক মাস আগে একটি পডকাস্টে করা মন্তব্যই নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। আর সেই মন্তব্য ঘিরেই ২৯ অক্টোবর সংসদে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।

কী এই ‘সেক্স মন্ত্রক’-এর বিতর্ক?

প্রথমেই বলে রাখা দরকার, আর্মেনিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সেক্স মন্ত্রক’ তৈরির কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদে এমন কোনও বিলও পেশ করা হয়নি। আসলে বিষয়টির সূত্রপাত চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি পডকাস্ট থেকে। সেখানে আর্মেনিয়ার বিরোধী দল ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’-র সঙ্গে যুক্ত সার্গিস কারাপেতিয়ান দেশের জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং জন্মহার সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। সেই কথোপকথনের মধ্যে এক অংশগ্রহণকারী কাল্পনিকভাবে ‘মিনিস্ট্রি অফ সেক্স’ বা ‘সেক্স মন্ত্রক’ তৈরির কথা বলেন। সার্গিসের বক্তব্য ছিল, যৌন সম্পর্ক ছাড়া দেশের জনসংখ্যা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সেই কথোপকথন থেকেই ‘সেক্স মন্ত্রক’ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত।

মহিলাদের নিয়ে মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক

ওই পডকাস্টে মহিলাদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়েও কিছু মন্তব্য করা হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, সেই মন্তব্য ছিল মহিলাদের প্রতি অসম্মানজনক। যদিও পরে সার্গিস দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তা তুলে ধরা হচ্ছে।

কেন কয়েক মাস পর সংসদে হাতাহাতি? গত ২৯ অক্টোবর আর্মেনিয়ার সংসদে অডিট চেম্বারের সদস্য নিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই সময় শাসকদল সিভিল কনট্র্যাক্টের সাংসদ তারোন চাকোইয়ান পুরনো পডকাস্টের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বিরোধী নেতা নারেক কারাপেতিয়ানকে মহিলাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। নারেক হলেন সার্গিস কারাপেতিয়ানের তুতো ভাই। চাকোইয়ানের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে নারেকের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এরপরই পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়।

সংসদের ভিতরে কী ঘটেছিল?

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বচসা শুরু হওয়ার পর দুই পক্ষের সাংসদরা একে অপরের দিকে তেড়ে যান। চলে ধাক্কাধাক্কি, ঘুষি ও লাথি। এমনকী সংসদের ডেপুটি স্পিকার ভাগন আলেক্সানিয়ানকে বিরোধী সাংসদদের দিকে চেয়ার ছুড়তেও দেখা যায়। হাতাহাতিতে কয়েকজন সাংসদ আহত হন। কারও নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, আবার কারও পোশাক ছিঁড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তারক্ষীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়। শেষ পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন মুলতুবি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীও সমর্থন করলেন সাংসদদের মারামারি?

ঘটনার পর আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান শাসকদলের সাংসদদের পদক্ষেপকে সমর্থন করেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দলে থাকলেই কেউ যা খুশি করতে পারেন না। পরিস্থিতি অনুযায়ী চেয়ার বা অন্য কিছু ব্যবহার করাও ন্যায্য প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে বিরোধী নেতা নারেক কারাপেতিয়ানও সংসদের এই হাতাহাতিকে স্বাভাবিক বলে দাবি করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আর্মেনিয়ার সংসদে এটি তৃতীয় বড় ধরনের হাতাহাতির ঘটনা।