রায়গঞ্জে একদিকে যেমন দলের একাংশ প্রার্থী নিয়ে ক্ষুব্ধ, সেখানে দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করলেন এক মোদী ভক্ত বিজেপি সমর্থক। প্রমাণ করে দিলেন নেতা হওয়ার লোভে নয়, বাংলায় এখনও মানুষ আদর্শের প্রতি, দলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই রাজনীতি করে। পেশায় মাছ ব্যবসায়ী এই যুবক, জীবিকার তাগিদে দলের প্রচারে যেতে পারছেন না। তাই জীবিকা আর দলীয় প্রচার - দুটিকে অভিনব উপায়ে মিলিয়ে দিয়েছেন করন মাহাতো।

রায়গঞ্জ শহরের তুলসীপাড়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু, তারপরই সংসারের হাল ধরতে হয়েছিল। মাছ বিক্রিকেই পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন। প্রতিদিন দুইবেলা নেতাজী শান্তি ক্লাব মোড়ে রাস্তার একপাশে মাছের দোকান নিয়ে বসেন তিনি। আর তাঁর হৃদয়ে একটিই নাম, নরেন্দ্র মোদী।  এখান থেকে আরও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রীর আদ্যন্ত ভক্ত তিনি। আশপাশে বিজেপির কোনও জনসভা থাকলে, সেইদিন তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধ করে চলে যান তিনি।

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। বিজেপি কর্মীরা প্রতিদিনই দুইবেলা প্রচারের কাজে বের হচ্ছেন। এলাকায় প্রচুর মিছিল, মিটিং হচ্ছে, ফ্ল্যাগ, ফেস্টুন পোস্টার লাগানো হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, করণের মন পড়ে থাকে সেখানে। কিন্তু পেটের দায়, মাছের দোকানটা চালাতেই হবে। ফলে, দলের কোনও প্রচার কর্মসূচিতেই অংশগ্রহণ করতে পারছেন না তিনি। তাই বাধ্য হয়েই দলের পতাকা হাতে নিয়েই দোকান খোলেন তিনি। আর, দলের পতাকাটা হাতে নিয়েই মাছের উপর বসা মাছিদের তাড়াচ্ছেন। মাছিও তাড়ানো হচ্ছে, পতাকাও নাড়া হচ্ছে।

করণ মাহাতো বলেছেন, 'আমি নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপির ভক্ত। কিন্তু জীবিকার জন্য ইচ্ছা থাকলেও প্রচারে যেতে পারি না। সেই কারণে দলের ফ্লাগ নিয়ে মাছি তাড়ানোর অছিলায় প্রচার চালাচ্ছি। এতে মানুষের মধ্যে এই ফ্ল্যাগের পরিচিতি বাড়ছে। এইভাবেই দলের কাজে লাগাচ্ছি নিজেকে।'

বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই রায়গঞ্জের বিভিন্ন ব্লকে প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন গেরুয়া শিবিরের একাংশের নেতা-সমর্থক। এমনকী ভাংচুরও করা হয়েছে একাধিক দলীয় কার্যালয়। এর মধ্যে, ব্যতিক্রম করণ-এর মতো কর্মীরা। বিজেপি দলের পক্ষ থেকে তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।