নতুন বছর শুরু হতে না হতেই রাজ্যে কার্যত ভোটের প্রচার শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। প্রার্থীর নাম ফাঁকা রেখে অনেক জায়গায় শুরু হয়ে গিয়েছে দেওয়াল লিখনও। বাম-কংগ্রেস জোটের জট নিয়ে সমস্যায় থাকলেও, তৃণমূল ও বিজেপি নেতাদের বাক্য বিনিময়ে প্রতিনিয়ত চড়ছে রাজ্যের রাজৈনিতক পারদ। এবার বাংলা দখলের লড়াই যে মূলত তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির লড়াই হতে চলেছে তাও মানছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।এই আবহে বিধানসভা নির্বাচন কোন মাসে হবে, ক দফায় হবে, নিরাপত্তা ব্য়বস্থাই বা কি থাকবে তা নিয়ে কৌতুহল রয়েছে রাজ্যবাসী। 

দিন ঘোষণা এখনই না হলেও, নির্বাচন কমিশন সূত্রে যা জানা যাচ্ছে, তাতে রাজ্যে বিধান সভা নির্বাচনের দিনক্ষণ মার্চের শুরুতেই ঘোষণা করে দেওয়া হবে। এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই নির্বাচবী প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় কমিশন। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফল ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা।  নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বাংলায় ৭ দফায় হতে পারে বিধানসভা ভোট। রাজনৈতিক হিংসা ও মাওবাদী সমস্যার কথা মাথায় রেখে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন সাত দফায় করেছিল কমিশন। তবে এবার মাও সমস্যা খুব একটা না থাকলেও, বাংলার নির্বাচনে রাজনৈতিক হিংসা ও করোনা সংক্রমণের কথা ভেবে নির্বাচনকে ৭ দফায় করার পক্ষপাতী কমিশন।

করোনা সংক্রমণের কথা ভেবে রাজ্যে বুথ সংখ্যাও অনেকটা বাড়ানোর কথা ভাবছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা। গত বিধানসভা নির্বাচনে মোট বুথ সংখ্যা ছিল ৭৮ হাজারের মত। বুথ প্রতি ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০০। এবার করোনা সংক্রমণের কথা ভেবে আরও ২৮ হাজার বুথ বাড়ানোর কথা ভাবছে কমিশন। যাতে বুথ প্রতি ভোটারের সংখ্যা হাজারে নিয়ে আসা যায়। করোনার মধ্যে মানুষ বুথমুখী হবে কিনা তা নিয়ে বিহার ভোটের আগে ধন্দে ছিল কমিষশন। কিন্তু বিহারের ভোটের শতাংশ বাড়ায় চিন্তা কমেছে কমিশনের। তাই অসম, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও কেরলে ভোট প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত  নিয়েছে কমিশন।

যে ৫ রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে তার মধ্যে সবথেকে বেশি উল্লেখযোগ বাংলার নির্বাচন। এবার বাংলার নির্বাচনের দিকে নজর গোটা দেশের। কারণ প্রথমবার বাংলায় প্রধান বিরোধী দল হিসেবে অংশ নিতে চলেছে বিজেপি। তাছাড়া পঞ্চায়েত থেকে লোকসভা বাংলার ভোট যে রক্তাক্ত হয়েছে সেই কথাও অজানা নয় কমিশনের। বিরোধীরা সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে বারবার কমিশনের কাছে দরবার করেছে। ফলে যথার্থ পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট করানো বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে কমিশনের কাছে।