এই চিত্রনাট্য হার মানাবে বড় পর্দাকেও। আদালতের রায়ে মুক্তির দেড় ঘণ্টার মধ্যেই ফের গ্রেফতার হলেন আনিসুর রহমান। রাজ্যের আবেদনে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার সকালে তমলুক আদালত তৃণমূল নেতা কুরবান শা খুনের মামলা প্রত্যাহার করে। মুক্তি পেয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত আনিসুর রহমান। উচ্ছাসে ফেটে পড়েন তার অনুগামীরা। কিন্তু বেলা গড়াতে না গড়াতেই তমলুক আদালকের নির্দেশ খারিজ করে ফের আনিসুরকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বিকেলেই ফের হাজতে পৌছলেন দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতা।

"

২০১৯ সালে দুর্গা পুজোর সময় পাঁশকুড়ায় খুন হন তৃণমূল নেতা কুরবান শা। ঘটনায় গ্রেফতার হন শাসক দলের অপর নেতা আনিসুর রহমান। খুন, ষড়যন্ত্র সহ একাধিক মামলা রুজু হয় আনিসুরের নিরুদ্ধে। কিন্তু বিগত বেশ কিছু দিন ধরে বদলাতে শুরু করে চিত্রটা। মামলা প্রত্যাহারের নির্দেশনামা জারি করে রাজ্য সরকার। সরকারি আইনজীবী সেই মতো তমলুক আদালতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানান। মঙ্গলবারই তাতে ছাড়পত্র দেয় তমলুক আদালত। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কুরবানের পরিবার। বিকেলে তমলুক আদালতের রায়কে খারিজ করে ফের আনিসুর রহমানকে ফের গ্রেফতার করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বলা চলে ফের একবার হাইকোর্টে মুখ পুড়ল রাজ্য সরকারের।

"

আনিসুরের মুক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে এদিন অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা শাসক দলের পক্ষ থেকে আনিসুরকে চক্রান্ত করে ফাঁসানোর অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যর এজলাসে মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে সরকারি আইনজীবীর ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। সঠিক কি কারণে মামলা প্রত্যাহার করতে চাইছে রাজ্য সরকার তা পরিষ্কার নয় বলেও জানানো হয়, আদালতেরতরফে। এই পরিস্থিতিতে আদালত চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন বিচারপতি। এরপরই ফের আনিসুরকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে কোলাঘাট থেকে গ্রেফতার করা হয় আনিসুরকে। নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের অস্বস্তি আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।