পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই রাজ্য নিয়ে রীতিমত সক্রিয় ছিল বিজেপি। এবার কী সক্রিয় হতে হচ্ছে  রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘও। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার প্রাপ্ত অভিনেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন সংসদ মিঠুন চক্রবর্তীর মুম্বইয়ের বাড়িতে দেখা গেল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবতকে। একটি সূত্র জানাচ্ছে এদিন প্রাতরাশে তিনি মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি রীতিমত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন এতে কোনও রাজনীতি নেই। এর আগে ২০১৯ সালে নাগপুরে আরএসএস সদর দফতরে এক আগে একবার তাঁরা বৈঠক করেছিলেন। 


৭০ বছরের অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী বলেছেন তাঁর সঙ্গে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের একটি আধ্যাত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। সেটিকে খুব গভীর আধ্যাত্মিক সম্পর্ক বলেও তিনি বর্ণনা করেন। মিঠুন চক্রবর্তী আরও জানিয়েছেন ভাগবতের সফর পরিকল্পনা মাফিক। কারণ আগেই তিনি জানিয়েছিলেন তিনি যখন মুম্বইতে আসবেন তখন তিনি যাবেন অভিনেতার মাডআইল্যান্ডের বাড়িতে। তিনি আরও জানিয়েছেন লখনৌ থেকে শ্যুটিং সেরে মুম্বইতে ফেরার পরেই আরএসএস প্রধান বাণিজ্য নগরীতে ছিলেন। আর সেই কারণেই তাঁরা দেখা করতে পেরেছেন। অভিনেতার কথায় তাঁরা একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মিঠুন চক্রবর্তীর কথায় কেউ যখন বাড়িতে যায় তখন ধরে নেওয়া উচিৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁকে ভালোবাসেন। ভালোবাসের তাঁর পরিবারকেও। সেখানে কোনও রাজনীতি নেই বলেও দাবি করেছেন অভিনেতা। সপরিবারে মিঠুনকে নাগপুরে আমন্ত্রণ জানান হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মিঠুন চক্রবর্তীর রাজনৈতিক যোগ
নকশাল আন্দোলন

নকশাল আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ চারু মজুমদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল মিঠুন চক্রবর্তীর। ৭০  দশকে উত্তাল বাংলা। তখনও তিনি অভিনেতা হননি।  সেই সময় পুলিশের খাতায় ওয়ান্টেড তালিকাতেও নাম ছিল। নাকশাল আন্দোলনে যে তিনি যুক্ত ছিলেন তা তিনি একাধিকবার স্বীকারও করে নিয়েছেন। পরবর্তীকালে পুনের ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশুনা করে তিনি মুম্বই চলে যান। তবে তাঁর প্রথম ছবি মৃগয়া রিলিজ পায় বাংলা থেকেই। 


সিপিআই এম যোগ
বাংলার প্রায়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ও প্রয়াত মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর সঙ্গে অত্যান্ত ঘনিষ্ঠতা ছিল মিঠুন চক্রবর্তীর। তৎকালীন বাম সরকারের একাধিক অনুষ্ঠানে মিঠুন চক্রবর্তীকে সামনের সারিতে দেখা যেত। বামেদের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানেও মিঠুন চক্রবর্তী ছিল পরিচিত নাম। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে তিনি কাকা বলেও ডাকতেন বলে ঘনিষ্ট মহলের খরব। ২০০৯ সালে সুভাষ চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়। পরের বছরই মারা যান জ্যোতি বসু। তারপরই ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে মহাকরণ দখল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধীরে ধীরে বামেদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায় মিঠুন চক্রবর্তীর। তবে একটি অংশ দাবি করে সুভাষ চক্রবর্তীর মৃত্যুর পরেও তাঁর স্ত্রী রমলা চক্রবর্তীর সঙ্গে অভিনেতার সম্পর্ক বর্তমান ছিল। 

তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক 
ধীরে ধীরে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয় মিঠুন চক্রবর্তীর। নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে দলীয় অনুষ্ঠানেও দেখা গিয়েছিল মিঠুন চক্রবর্তীকে। তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদও করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু চিটফান্ড কাণ্ডে নাম জড়িয়ে যায় তাঁর। সূত্রের খবর নিজের ভাবমূর্তী অক্ষুন্ন রাখতে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। সেই থেকেই ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়তে থাকে তৃণমূলের সঙ্গে। এক কোটিরও বেশি টাকা তিনি জমা দিয়েছিলেন ইডির কাছে। যদিও প্রকাশ্যে তিনি জানিয়েছিলেন অসুস্থতার কারণেই তিনি পদত্যাগ করছেন। তাঁর পরথেকেই দূরত্ব বাড়তে থাকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও।