ভোটযুদ্ধে হার মানতে নারাজ আসাদউদ্দিন ওয়াইস। বাংলার ভোটের লড়াইতে তাঁর দল অংশগ্রহণ করবে। আর প্রার্থী তালিকাও তিনি ঘোষণা করবেন। রাজ্যের প্রথম দফা ভোটের দিন সাগরদিঘিতে নির্বাচনী সভা করবেন তিনি। সেই দিনই তিনি জানিয়ে দেবেন এই রাজ্যে কটি আসনে লড়াই করছে তাঁর দল। সংবাদ সংস্থা এএনআই তেমনই জানিয়েছে। বিহার নির্বাচনের সাফল্যই এই রাজ্যে মিমকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে উৎসাহী করেছিল বলেও সূত্রের খবর। কিন্তু প্রথম থেকেই এই রাজ্যে ঠক্কর খেতে হচ্ছে মিমকে। 


প্রথমে ঠিক ছিল আব্বাস সিদ্দিকের দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধে ২১-এর নির্বাচনী লড়াইতে লড়াই করবে তারা। এই রাজ্যে তাঁকেই নেতা মেনেছিলেন ওয়াইসি। আব্বাসের নেতৃত্বেই মিম লড়াই করবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে এসে প্রথমেই ওয়াইসি চলে গিয়েছিলেন ফুরফুরা সরিফে। দীর্ঘ বৈঠকও করেছিলেন আব্বাসের সঙ্গে। কিন্তু সব কিছুই ভেস্তে দিয়েছিল আব্বাসের বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সংযুক্ত মোর্চায় সামিল হওয়ার সিদ্ধান্ত। আব্বাস বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে আসন রফা করে সংযুক্ত মোর্চা তৈরি করে এই রাজ্যে নির্বাচনী লড়াইতে সামিল হয়েছেন। আর তারপর থেকেই আসাদউদ্দিন ওয়াসির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছে। আব্বাসের এই সিদ্ধান্তের পর কিছুটা হলেও হতাশ এই রাজ্যে মিমের নেতা কর্মী ও অনুগামীরা। অনেকেই শিবির বদল করতে শুরু করেছেন বলে সূত্রের খবর। পরিস্থিতি সামাব দিতে অবশেষে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে হচ্ছে ওয়াইসিকে। 

মনে আছে নন্দীগ্রামের বাম বিধায়ক ইলিয়াসকে, বাবার সম্মান ফেরাতে এবার প্রার্থী তাঁর ছেলে সাদ্দাম হসেন ...

'ঝাড়খণ্ডে আদিবাসীদের জমি ছিনিয়েছে বিজেপি ভূমির অধিকার দিয়েছে তৃণমূল', পুরুলিয়ার জনসভায় সরব মমতা ...

এই রাজ্যে ভোট যুদ্ধে সামিল হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম দিকে অল ইন্ডিয়া মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিনি- সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। কিন্তু গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মেটিয়াবুরুজে ওয়াসিকে সভার অনুমাতি না দেওয়ার পরই মিমের নেতারা হতাশ হতে শুরু করেন। আব্বাসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরেও মিমের নেতৃত্ব চেয়েছিল একলা চল রে নীতি নিয়ে ভোট যুদ্ধে সামিল হতে। সূত্রের খবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কোনওটাই চূড়ান্ত রূপ পায়নি। এখন সবই নির্ভর করছে আসাদউদ্দিন ওয়াসিরর ঘোষণার ওপর। তবে প্রথম দফা ভোটের দিন তিনি যদি তালিকা প্রকাশ করেন তাহলে ধরা যেতেই পারে প্রথম দুটি দফায় কোনও প্রার্থী দিচ্ছে না মিম। সেক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে থেকেই ভোট দৌড়ে অংশ নেওয়ার ছক কষছে মিম।