বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস-এর সংঘর্ষে শনিবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মিনাখা অঞ্চল। বিজেপির রথযাত্রা থেকে স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ, তার আগে ওই এলাকা দিয়ে বিজেপির রথ যাওয়ার সময় ওই পার্টি আফিস থেকে দিলীপ ঘোষের গাড়ির পিছনে একটি গাড়িতে বোমা মারা হয়। বিজেপি কর্মীদের মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ।

বিজেপির অভিযোগ, এদিন জেলার মালঞ্চ এলাকা দিয়ে রথযাত্রা যাওয়ার সময়ই প্রথমে তৃণমূল কর্মীদের বাধার মুখে পড়েছিলেন তাঁরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের অভিযোগ তাঁর গাড়িতে না হলেও, তাঁর গাড়ির একটু পিছনে থাকা একটি গাড়ি লক্ষ্য করেই বোমা ছোঁড়া হয়েছিল। এছাড়া রথযাত্রার শেষদিকে থাকা বাইকআরোহীদেরও রড, কাঠ, বাঁশ দিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়।

এরপর রথযাত্রা যখন বসিরহাটের দিকে ফিরে আসছে, সেই সময়ও তৃণমূলের পক্ষ থেকেই প্রথম আক্রমণ চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন দিলীপ। তাদের দুই সমর্থককে অপহরণ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। তারমধ্যে একজনকে উদ্ধার করা গেলেও অপরজন এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন তিনি। রাতের মধ্যে তার সন্ধান না পেলে বসিরহাটে বনধ ডাকার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, বিজেপির রথযাত্রা থেকেই মিনাখার তৃণমূলের অফিসেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাস্র ভিডিওয় বিজেপি সমর্থকদের ওই তৃণমূল কার্যালয় লক্ষ্য করে বড় বড় ইট-পাথর ছুঁড়তে দেখা গিয়েছে। আশপাশের বেশ কয়েকটি যানবাহনেও ভাঙচুর চালানো হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে একটি দুধের গাড়ি ও স্থানীয় একটি ক্লাবে ভাঙচুর করেছে 'বিজেপি-র গুন্ডাবাহিনী'।

তবে স্থানীয় পুলিশের দাবি, দিলীপ ঘোষের কনভয়ে বোমা হামলার গুজব থেকেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে বিজেপি কর্মীরা। তার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পরে স্থানীয় পুলিশ কর্তারা ওই এলাকায় গিয়ে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।