সোমবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় জানিয়েছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর থেকে লড়বেন না তিনি। কেন্দ্র বদল করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নন্দীগ্রাম থেকে। মুখ্যমন্ত্রীর এই কেন্দ্র বদলের সিদ্দান্ত নিয়ে তাঁকে ও তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে ছাড়ল না বিদেপি। সোশ্যাল মিডিয়ায়, মমতার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা অমিত মালব্য।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর কেন্দ্র বদলের সিদ্ধান্ত জনানোর অব্যবহিত পরই, বিজেপি নেতা অমিত মালব্য টুইট করে জানান, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা পুরসভার ৭৩ লম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে ৪৯৬ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এই ওয়ার্ডটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। আর তাতেই 'বিড়ম্বনায় পড়েছেন পিসি' বলে দাবি করেছেন অমিত মালব্য। আর সেই কারণেই এই কেন্দ্র বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করে অমিত মালব্য বলেছেন, 'যেখানে মুখ্যমন্ত্রীই তাঁর জয় সম্পর্কে নিশ্চিত নন, সেখানে তাঁর দল কীভাবে জিতবে?'

 

বস্তুত ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে, হেভিওয়েট সিপিএম নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্য়ায়কে পরাস্ত করে নির্বাচনী রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরের লোকসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্রেই সিপিএম-এর মালিনী ভট্টাচার্যের কাছে হেরে যান। তারপর ১৯৯১ সালের লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্র জয়ী হয়েছিলেন। তারপর দল বদল করেছেন জোট বদল করেছেন, কিন্তু কেন্দ্র বদল করেননি। ১৯৯৬, ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০৪, ২০০৯-এ একই কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর, ২০১১ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলন দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রেরই অন্তর্গত ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে। ২০১৬ সালে একই কেন্দ্র থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন। এইবার দীর্ঘ তিন দশক পর দক্ষিণ কলকাতা ছেড়ে তিনি লড়তে চলেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিঝধান,সভা কেন্দ্র থেকে। 

কেন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তাই নিয়ে রাজনৈতিক কাটাছেড়া চলছে। অনেকেই বলছেন, মমতার এই সিদ্ধান্তে বিজেপি-র বাংলায় ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা অনেকটাই ধাক্কা খেতে পারে। আবর বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে নিজ কেন্দ্রে পরাজয়ের ভয়েই মমতা এই সিদ্ধান্ত নিলেন। কে ঠিক, কে ভুল তার জবাব ভোটযন্ত্রেই মিলতে পারে।