সুন্দরবনের গোসাবায় নির্বাচনী প্রচারে এসে মোক্ষম অস্ত্রটা প্রয়োগ করে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন সর্ব ভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। ক্ষমতায় আসার পরই সুন্দরবনকে আলাদা জেলা ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়ে দিলেন শাহ। একইসঙ্গে সুন্দরবন, সাগর সহ বিস্তীর্ণ দ্বীপ এলাকার যাবতীয় উন্নয়নের আশ্বস বা প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন অমিত শাহ। তৃণমূলের গুন্ডারাজ আর বেশি দিন নেই, বাংলায় বিজেপি সরকার আসছে বলে আরও একবার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়ে গেলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।

এদিন গোসাবার সভা থেকে অমিত শাহ বলেন,'বিজেপি ক্ষমতায় এলে সুন্দরবনকে আলাদা জেলা করা হবে। সারা বিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সুন্দরবনের উন্নয়ন হবে। সুন্দরবনের জন্য আলাদা উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করব আমরা। ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা হবে।' এছাড়া মৎস্যজীবীদের উদ্দেশ্যে বিজেপির ইশতেহার তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মৎস্যজীবীদের বছরে ৬ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।  ৩ লক্ষ টাকার বিমাও করে দেওয়া হবে।'  গোসাবা বিধানসভা কলকাতার কাছাকাছি হলেও এখনও সে ভাবে উন্নয়ন হয়নি। বিশুদ্ধ পানীয় জল মেলে না। বিজেপি সরকার এল ২ বছরের মধ্যে পানীয় জলের সব সমস্যার সমাধান করে হবে।

এছাড়াও রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে একধিক ইস্যুতে তুলোধনা করেন অমিত শাহ। তোলাবিজ, আমফান দুর্নীতি, কয়লা-বালি কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে গুন্ডারাজ সব ইস্যুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কাঠ গড়ায় তোলেন শাহ। তবে সুন্দরবনকে আলাদা জেলা করার ঘোষণা শাহ-র মাস্টার স্ট্রোক বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, এর আগে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় সুন্দরবনকে আলাদা জেলা ঘোষণা করার কথা বলেছিলেন। ঝাড়গ্রাম, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার আলাদা জেলা হলেও, ১০ বছরে বাদের খাতায় থেকে গিয়েছে সুন্দরবন। ফলে নির্বাচনেরল আগে অমিত শাহের সুন্দরবনকে আলাদা জেলা করার ঘোষণা তাফপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।