জেল হেফাজতে পাঠানো হল আনিসুর রহমান-কেএদিন তাঁকে তমলুক মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছিলবিচারক হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখেনএদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ধৃত আনিসুর 

তৃণমূল কর্মী কুরবান শাহ-কে হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত আনিসুর রহমান-কে জেল হেফাজতে পাঠালো নিম্ন আদালত। এদিন আনিসুরকে তমলুক মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে। মঙ্গলবারই আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে রাজ্য সরকারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন আনিসুর বলেন, রাজ্য সরকার এই মামলা প্রত্যাহার করেছে। তাই এই ক্ষেত্রে তাঁর কোন ভূমিকা নেই।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এদিন, আদালতে তোলার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেয় আনিসুর। সে বলে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন নেই তার। মন্ত্রী কিংবা ৩৫টা পদও সে চায় না। সে শুধু মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিল। তার জন্য একটা প্লাটফর্ম দরকার হয় বলেই তৃণমূল কংগ্রেস করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। সে জানান, এতদিন মুকুল রায়ের সঙ্গেই ছিল সে। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, গেরুয়া শিবিরে আথে বলেই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তাই রাজ্য সরকার যখন তাঁকে মুক্তি দিতে চেয়েছিল, সে আশা করেছিল বিজেপি দলের পক্ষ থেকে সরকারের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা হবে, স্বাগত জানাবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তা হয়নি।

আনিসুর আরও বলে, এখন মানবিকতা-মমত্ববোধ এবং ধাপ্পাবাজি-ইউটার্নের লড়াই চলছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কুরবানের স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের প্রতি তার সমবেদনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সে। নিজেকে চক্রান্তের শিকার বলে সে প্রকৃত দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। আনিসুর বলে, বাংলা কবি নজরুলের দেশ। কবি নজরুল যেমন বাঙালির মনে আছেন, মমতা আছেন বাঙালির ঘরে ঘরে।

মঙ্গলবারই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কুরবান শাহ হত্যা মামলায় আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল রাজ্য সরকার। তারপরই তমলুক আদালত তাঁকে ৫০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দিয়েছিল। তমলুক হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে কোলাঘাট চলে গিয়েছিল সে। এরমধ্যে হাইকোর্ট থেকে রাজ্য সরকারের মামলা প্রত্যাহারের আবেদন খারিজকরে দেওয়া হয়। বলা হয়, এর আগে আনিসুরের জামিনের বিরোধিতা করলেও, এখন কেন মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে, তা জানাতে হবে। এভাবে চাইলেই মামলা প্রত্যাহার করতে পারে না রাজ্য সরকার। তারপরই কোলাঘাট থেকে ফের গ্রেফতার করা হয়েছিল আনিসুরকে।