নন্দীগ্রাম আসন থেকেই কি শুভেন্দু অধিকারীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হবে, নাকি অন্য কোথাও থেকে? বিধানসভা থেকে লোকসভায় যাওয়া রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে ফের বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড় করানো হবে? এমনই কিছু প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে এখন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মনে। প্রথম দুই দফার প্রতিটি আসন পিছু ৪ থেকে ৫ জন প্রার্থী বেছে রাখা আছে। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি, প্রশ্নগুলির জবাব নিশ্চিত করে ফেলবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে। ওইদিনই প্রকাশ করা হবে, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দুই দফার প্রার্থী তালিকা।

বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকের পর রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, প্রথম দুটি পর্যায়ের বিজেপির জেলা ইউনিটগুলি থেকে প্রায় ১২০ থেকে ১৪০ জনের নাম পাঠানো হয়েছিল। তার সঙ্গে আরও কয়েক'শ নাম ছিল। সব মিলিয়ে প্রতিটি আসন পিছু ২০-২৫ জন করে সম্ভাব্য প্রর্থীর নাম ছিল বলে দাবি করেছেন দিলীপ ঘোষ। সেখান থেকে রাজ্য ইউনিট আসন প্রতি গড়ে ৪-৫ জনের নাম শর্টলিস্ট করে। এবার সেখান থেকে বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) নয়াদিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি (CEC) ৬০টি আসনের প্রার্থীদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করবে। কে কোন নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

দ্বিতীয় পর্বেই ভোট গ্রহণ করা হবে নন্দীগ্রাম আসনের। এই কেন্দ্র থেকেই এইববার প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, এই আসন থেকেই গত দুইবার নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ও রাজীব বন্দ্য়োপাধ্যায় সহ তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে যাওয়া ১৯ জন বিধায়কই তাঁদের পুরনো নির্বাচনী কেন্দ্র থেকেই বিজেপির টিকিট পেতে পারেন। তবে শুভেন্দু অধিকারীকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়করানো নিয়ে বিজেপির নেতাদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।

আরেকটি প্রশ্ন হল দিলীপ ঘোষকে আবার বিধানসভায় ফেরানো হবে কি না। ২০১৬ সালে খড়গপুর সদর আসন থেকে জয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেছিলেন তিনি। তারপর, ২০১৯ সালে পদত্যাগ করে প্রার্থী হন লোকসভাায়। এখন আবার সাংসদ থেকে তাঁকে বিধায়কের পরীক্ষায় নামানো হবে কি না, সেই বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে নির্বাচন কমিটিকে। তবে  গেরুয়া শিবির থেকে এইবার বাংলায় বেশ কয়েকজন চলচ্চিত্র তারকা প্রার্থী হতে চলেছেন, এই বিষয়টি একেবারে নিশ্চিত।