শুক্রবারই, হুগলীর সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ফের তৃণমূল প্রার্থী করা রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্তকে। তার পরদিনই ভোট প্রচারে বেরিয়েছ  তীব্র বিতর্কে জড়ালেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে ভোট না দিলে জল বন্ধ করে দেওয়া হবে, বলে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজ্যের প্রতিটি বিরোধী দলই।

এদিন, এলাকায় ভোট প্রচারে বেরিয়েছিলেন তপন দাশগুপ্ত। ২০১১ সাল থেকে এই সপ্তগ্রাম কেন্দ্রে পরপর দুবার জয়ী হয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর দিকেতাক করা ছিল সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা। তাতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি এই তৃণমূল নেতা। ক্যামেরার সামনেই তাঁকে ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, ভোট না দিলে জল বন্ধ করে দেওয়া হবে। বুথ দেখে দেখে চিহ্নিত করা হবে, কারা ভোট দেয়নি। তারপর, সেইসব এলাকা দিয়ে দলের লাইনও যাবে না, জলও পাওয়া যাবে না। তাদের নাগরিক কোনও পরিষেবাই দেওয়া হবে না। তখন, বিজেপিকে ডেকে এনে কাজ করাতে হবে, এমন কথাও বলতে শোনা গিয়েছে রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রীকে।

তবে, এই প্রথম গরম গরম কথা বলে বিতর্কে জড়ালেন তপন দাশগুপ্ত এমনটা নয়। গত বছরও নিজেকে সবচেয়ে বড় গুন্ডা বলে দাবি করেছিলেন মন্ত্রী। অভিযোগ করেছিলেন, দলের মধ্যেই তাঁকে হারানোর চক্রান্ত করা হচ্ছে। তারা কেউ কেউ বলছে, তারা মস্তান। এরপরই বলেছিলেন, তিনিই সবচেয়ে বড়  মস্তান। পুলিশ-আইবি'ককে কাজে লাগিয়ে এই 'দুনম্বরী তৃণমূলী'দের চিহ্নিত করার হুমকিও দিয়েছিলেন তপন দাশগুপ্ত। ২০২১-এ তিনিই জিতবেন বলে দাবি করে জানিয়েছিলেন, জয়ের পর এবার আর রবীন্দ্র সঙ্গীত, শ্যামাসঙ্গীত বাজাবেন না। দুদিক দিয়ে পেটাবেন। সিপিএম-বিজেপি'কেও পেটাবেন, দলের 'মীরজাফর'দেরও পেটাবেন।  

তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যের সমালোচনা করে, বিরোধীরা দাবি করেছেন, তপন দাশগুপ্ত আদর্শ আচরণবিধই ভঙ্গ করেছেন। বিষয়টি যেহেতু সংবাদমাধ্য়মের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, তাই এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিজে থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এবার কমিশন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয় কিনা, সেটাই দেখার।