হেস্টিংস কাণ্ডে জল গড়াল অনেক দূর। শুভেন্দুর পর এবার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা আওতায় সুনীল মন্ডল। তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পর এবার সুনীল মন্ডলের জন্যও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার ব্য়বস্থা করছে  রাজ্য-বিজেপি। কৈলাশ বিজয়বর্গীয় জানিয়েছেন, সুনীল মন্ডলকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে লিখিত আর্জি জানানো হয়েছে। দ্রুতই সুনীল মন্ডলকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তবে সুনীলকে কোন পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে এবার সেই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তার শ্রেণীগুলিও জেনে নেওয়া যাক, যে দেশের মন্ত্রীরা-প্রথম সারির নেতারা কী কী ধরণের নিরাপত্তা পান।

 

 


হেস্টিংসে ঠিক কী হয়েছিল

প্রসঙ্গত, শনিবার শুভেন্দুর বৈঠক ঘিরে ব্যাপক বচসা বাধে  খিদিরপুরের হেস্টিংসে।  খিদিরপুর হেস্টিংস হাউজে বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে তৃণমূল-বিজেপি মধ্য়ে ঝামেলা লেগে যায়।   খিদিরপুর হেস্টিংস হাউজে বিজেপির দফতরে ৪৩ জনের সঙ্গে বৈঠক ছিল শুভেন্দুর। কিন্তু এই বৈঠক ঘিরেই শুরু হয় ব্যাপক বচসা। বিজেপি অফিসের বাইরে সদ্য বিজেপি-তে যোগ দেওয়া সাংসদ সুনীল মণ্ডলের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে তৃণমূল কর্মীরা। এমনকি শেষ পর্যন্ত সুনীল মণ্ডলের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা।  উল্লেখ্য, তৃণমূলের ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মিটিং ছিল। পাশাপাশি হেস্টিংস হাউসে শনিবার বিজেপির তরফ থেকে মিটিং ছিল। শুভেন্দু অধিকারী সহ অর্জুন অর্জুন সিং ও সুনীল মন্ডল সহ বিজেপি নেতারা এসেছিল। বেশকিছু যোগদান ছিল  তৃণমূল থেকে বিজেপিতে। আর এটাই মেনে নিতে না পেরে ঝামেলা বাধায় তৃণমূল, বলে মত রাজনৈতিক মহলে। এদিকে ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা  সামাল দিতে  ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী।

 

 


সুনীলকে কোন পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়া হবে

অপরদিকে, বিজেপিতে যোগদান করার পর শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা নিয়েও যথেষ্ট উদ্বেগে ছিল গেরুয়া শিবির। একদিকে দলকে ত্যাগ করে একুশের দোরগোড়ায় তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী দল বিজেপিতে নাম লেখানোয় যে ক্ষোভে ফুঁসছে একাংশ, এনিয়ে চাপান উতোর রাজনৈতিক মহলে। তাই হামলা হবার আগেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে প্রথম সারির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর মেদিনীপুরে অমিত শাহের উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মন্ডল। দলবদল করার আগে পাইলট কার-সহ রাজ্য সরকারের দেওয়া নিরাপত্তা ছেড়ে দেন শুভেন্দু। তাঁর জন্য বুলেট প্রুফ গাড়ি-সহ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন জেড নিরাপত্তা পাচ্ছেন প্রাক্তণ পরিবহণ মন্ত্রী। সুনীলকে কোন পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার। 

 

 

জেড প্লাস নিরাপত্তা কী


ভারতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবিশেষকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য রয়েছে মোট ৪ টি ক্যাটাগরি। যথাক্রম জেড প্লাস শ্রেণী, জেড শ্রেণী, ওয়াই শ্রেণী এবং এক্স শ্রেণী। দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাই এই নিরাপত্তা পান। উল্লেখ্য, এখানে জেড প্লাস নিরাপত্তা হল ভারতের কোনও ব্যাক্তি দেওয়া সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা। এই পর্যায়ের নিরাপত্তা বলয়ে ৫৫ জন নিরাপত্তাকর্মী নিযুক্ত থাকে। যাদের মধ্যে ১০ জন এনএসজি কমান্ডো এবং বাকিরা হয় পুলিশ বাহিনীর বিশেষ দক্ষ নিরাপত্তা কর্মী।  এই ১০ জন এনএসজি কমান্ডো প্রত্যেকেই অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র চালাতে দক্ষ এবং মার্শাল আর্টে এবং হাতিয়ার লড়াই করতেও উচ্চ প্রশিক্ষিত। অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে এদের কাছে থাকে এমপি৫ বন্দুক এবং উচ্চ পর্যায়ের প্রযুক্তিগত যন্ত্র।